নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিনটা ছিল ৫ আগস্ট ২০২৪। এই দিনের সকাল থেকেই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান শুরু হলে অবশেষে বেলা দুইটার আগেপড়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা।
এদিকে দেশ ছাড়তে ব্যস্ত শেখ হাসিনা আরেকদিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনকারী সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এতে কমপক্ষে নিহত হন ৫২ জন মানুষ।
কি ঘটেছিল সেদিন:
৫ আগস্ট বিকালে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিবর্ষণ শুরুর কিছু মুহূর্ত দূর থেকে ড্রোন, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে প্রত্যাক্ষদর্শীরা। ভিডিওর মেটাডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনাটি শুরু হয়েছিল দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে। যাত্রাবাড়ী থানার ভেতরের পুলিশ সদস্যরা ফটকের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারী জনতার ওপর আকস্মিকভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার উল্টো দিকে অবস্থিত একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ গুলি চালানো শুরু করার পর প্রাণ বাঁচাতে গলির ভেতর দিয়ে ছোটাছুটি করে পালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। আরেকটি ভিডিওতে আহতদের শরীরে লাথি মারতেও দেখা যায় পুলিশকে। বিকাল ৩টা ১৭ মিনিটেও যাত্রাবাড়ী থানার সামনের মহাসড়কে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাচ্ছিল পুলিশ। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে এই ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে গণহত্যায় অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছিলো।
কিন্তু সেদিন যাত্রাবাড়ীতে কিন্তু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তখনকার খবর, নিহতদের পরিবারের সাক্ষাৎকার, হাসপাতালের নথি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টের সত্যতা যাচাই করার পর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে কমপক্ষে ৫২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
টিবিএম/জ/রা



