― Advertisement ―

শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা নয়: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহুমুখীকরণের আহ্বান আমচামের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেবল তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রথাগত বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। আগামী ৫০ বছরের কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়তে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং উদীয়মান শিল্প খাতকে কেন্দ্র করে নতুন বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশের (আমচাম) সাবেক সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ।

তিন দশক আগে আমচাম বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করার সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুদেশের কেবল পণ্য বাণিজ্য পৌঁছেছে প্রায় ১১.৯ বিলিয়ন ডলারে। পণ্য ও সেবা খাত মিলে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন ডলার। এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির সঙ্গেই বেড়েছে দুই দেশের বাণিজ্যিক মেলবন্ধন।

ইকসপেডিটরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এফআইসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, আমচামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, লজিস্টিকস, খাদ্য, প্রযুক্তি ও তৈরি পোশাকের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে বিনিয়োগ করেছে। এসব মার্কিন বিনিয়োগ শুধু পুঁজি আনেনি; বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্থানীয় পেশাদারদের যুক্ত করে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করেছে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রথাগত সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতি আর দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ওষুধ শিল্প, সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, আধুনিক কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ইলেকট্রনিক্স এবং লজিস্টিকস খাতে যৌথ বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র প্রযুক্তি গ্রহণ নয়, বরং প্রযুক্তি যৌথভাবে তৈরির (Co-Creation) মডেল অনুসরণের তাগিদ দেন প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের এই বিশেষজ্ঞ।

তবে আমেরিকান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশকে অবশ্যই নিজস্ব ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সুসংহত ও সহজ করতে হবে। দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, আধুনিক বন্দর সুবিধা, স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অধিকার (আইপিআর) সুরক্ষা এবং নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আগামী ৫০ বছরের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত ‘উভয় দেশ মিলে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন করবে’। যুক্তরাষ্ট্রের দরকার স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল ও উদীয়মান বাজার; আর বাংলাদেশের প্রয়োজন ক্যাপিটাল, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক মানদণ্ড। এ দুই স্বার্থের সমন্বয়েই একটি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই কৌশলগত চুক্তি সম্ভব।