দেশের অবহেলিত ও রেলবঞ্চিত আরও ১০টি জেলাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই মেগা কানেক্টিভিটি পরিকল্পনার কথা জানান। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সবকটি (৬৪) জেলাকে রেল যোগাযোগের সাথে যুক্ত করার অংশ হিসেবে প্রাথমিক ধাপে এই নতুন ১০ জেলাকে বাছাই করা হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে রেল সেবার আওতায় আসতে যাওয়া এই ১০টি জেলা হলো—শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুর। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম, সেবার মানোন্নয়ন এবং সামগ্রিক কানেক্টিভিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও বাজেট বরাদ্দের তাগিদ দিয়েছেন।
নতুন জেলাগুলোকে যুক্ত করার পাশাপাশি দেশের ট্রাঙ্ক রুট বা প্রধান রেললাইনগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্পের পাশাপাশি গাজীপুরের ধীরাশ্রমে একটি অত্যাধুনিক ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (ICD) প্রকল্প ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম থেকে সিলেট পর্যন্ত যে ‘মিসিং লিংক’ রয়েছে, সেগুলোকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ‘কর্ড লাইন’ নির্মাণেরও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের রেল দূরত্ব প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার কমে আসবে।
বিগত আমলের প্রকল্প বাস্তবায়নের ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতার তীব্র সমালোচনা করে শেখ রবিউল আলম উন্নয়ন মডেলে এক আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, “অতীতে দেখা গেছে রেললাইন নির্মাণ শেষ হলেও ইঞ্জিন বা বগির অভাবে ট্রেন চালু করা যায়নি। বর্তমান সরকার এই বিচ্ছিন্ন পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসেছে।” এখন থেকে যেকোনো নতুন রেল প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (DPP) পাসের সময় লাইন নির্মাণ, লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং ক্যারেজ (বগি) সংগ্রহকে একটি একক সমন্বিত প্রকল্পের অধীনে আনা হবে। এর ফলে ট্র্যাক বা লাইন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সাধারণ মানুষ সরাসরি ট্রেন চলাচলের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।



