― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষ্যা-মেঘনায় সাড়ে ৩ বছরে ভেসেছে ৭৫০ লাশ

ডেস্ক রিপোর্ট

রাজধানী ঢাকার ভেতর ও এর পাশ দিয়ে বয়ে চলা তিনটি নদী যেন মরদেহ গুম করার ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদী থেকে গত সাড়ে তিন বছরে অন্তত ৭৫০টি মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ ও থানা পুলিশ।

শুধু এই তিন নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও এর সঠিক পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নেই।

এই তিন নদীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত উদ্ধার করা ৭৫০ মরদেহের মধ্যে পাঁচ শতাধিক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো অজ্ঞাত পরিচয় নিয়েই দাফন বা সৎকার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, রাজধানী ও এর আশেপাশের জেলায় মানুষ হত্যা করে মরদেহ তিন নদীতে ফেলে দেয় অপরাধীরা। ঢাকার ভেতর ও এর পাশ দিয়ে বয়ে চলা এই তিন নদীর কোথাও না কোথাও প্রায় প্রতিদিনই মরদেহ মিলছে।

সূত্রগুলো বলছে , মরদেহ গুমের ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশি ছিল বলে চাউর রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদী থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনা আরো বেড়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো যে সব হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এমনটা নয়। কিছু মরদেহ নৌযান দুর্ঘটনার আবার কিছু পানিতে ডুবে মৃত্যুর।

পুলিশের সূত্র বলছে, অপরাধীরা বিভিন্ন জায়গায় মানুষ হত্যা করে লাশ নদীর নির্জন স্থানে ফেলে দেয়। নদীতে লাশ ফেললে স্রোতের টানে এক এলাকার মরদেহ অন্য এলাকায় চলে যায়। অনেক সময় মরদেহ টুকরো করে বস্তাবন্দি করে ফেলে। আবার অনেক সময় পুরো মরদেহ বস্তায় ভরে ইট-পাথর দিয়ে ভারী করে পানিতে ফেলে দিলে ডুবে যায়। কয়েকদিন পানিতে থাকায় মরদেহের চেহারা বিকৃত হওয়ার পাশাপাশি পচে গলে যায়। ফলে বিকৃত চেহারা স্বজনরা শনাক্ত করতে পারেন না। এ ছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতেও আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে শনাক্ত করা যায় না।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলামত নষ্ট করে হত্যাকারী নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করে। বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যা মামলা ও ইউডি মামলা হয়। হত্যা মামলায় তথ্য প্রমাণ পরিচয় শনাক্ত না হওয়াতে মামলার কূলকিনারা করতে পারেন না তদন্তসংশ্লিষ্টরা। পচে গলে যাওয়াতে মেডিকেল রিপোর্টেও ভালো ফলাফল আসে না।

অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকা প্রচুর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় অপরাধীরা লাশ গুম করার জন্য নদীকে বেছে নিয়েছে । কারণ নদীর অনেক এলাকা নির্জন থাকে। আর লাশ নদীতে ফেলে দিলে সেটি স্রোতের টানে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় চলে যায়।

তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নদী পথে আরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও পেট্রোলিং বাড়ানো প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, নৌ-পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ান বলেন, নদীতে লাশ পাওয়া গেলে সেটা নির্ভর করে কোন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। যদি শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় তবে আমরা হত্যা মামলা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেই। আর আঘাত পাওয়া না গেলে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করি। রিপোর্টে যা আসে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, নদীতে যেসব লাশ মিলে সেগুলো অনেকদিন আগের হওয়াতে গলে-পচে যায়। তাই অনেক সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া যায় না। চেহারাও বিকৃত হয়ে যায়।

তবে যেসব লাশ শনাক্ত করা যায় সেগুলো আত্মীয়স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। অপরাধীরা নিজেদের অপরাধ লুকাতে অন্য স্থানে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয় বলেও জানান নৌ-পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সূত্র: মানবজমিন