নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় একটি বালুবাহী পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই আরোহী তরুণ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের সোনাপুর-কবিরহাট সড়কের বারীপুকুর পাড় এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে পিকআপ ভ্যানের নিচে ঢুকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই ঘাতক পিকআপ ভ্যানসহ এর চালককে আটক করেছে স্থানীয় থানা-পুলিশ।
নিহত দুই তরুণ হলেন—নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল উদ্দিনের ছেলে তারেক রহমান শিবলু (১৬) এবং একই পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রহমত উল্যার ছেলে জিহাদ হোসেন (১৯)। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বসুরহাট এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানায়, অসতর্কতা ও অতিরিক্ত গতির কারণেই রাতের অন্ধকারে এই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দীন ভূঁইয়া দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “ঘটনার সময় কবিরহাট থেকে একটি বালুবাহী পিকআপ ভ্যান সোনাপুরের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটির সঙ্গে সোন্দলপুরের বারীপুকুর পাড় নামক স্থানে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে কবিরহাট থানা-পুলিশের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপের নিচ থেকে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল ও নিহত দুই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।”
আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে ওসি আরও জানান, ঘটনার পরপরই দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে পিকআপ ভ্যানের চালক মহিউদ্দিনকে (৪০) গাড়ি জব্দ করাসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। নিহতদের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইন (Road Transport Act) অনুযায়ী কবিরহাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বেপরোয়া চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



