নিজস্ব প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি) সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। সর্বশেষ ৩৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে পোশাক খাত বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে বাংলাদেশ।
১ আগস্টের আগে আলোচনা ফলপ্রসূ সমাধান না হলে ৭ আগস্টের পর রপ্তানি করা পণ্য নিয়ে শুল্ক গুনতে হবে। এর ফলে যদি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ হয়, তবে ১০ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কত শতাংশ :
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার, যেখানে প্রতিবছর প্রায় আট বিলিয়ন ডলারের পোশাক যায়।
এখন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ০.২৫ শতাংশ এবং বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৬.২ বিলিয়ন ডলার হলেও দেশটিকে ৩৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে, যা ১৪টি লক্ষ্যভুক্ত দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। এ জন্য দেশের রপ্তানিকারকদের ৫০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিয়ে মার্কিন বাজারে পণ্য রপ্তানি করতে হবে।
কিভাবে সক্ষমতা হারাবে বাংলাদেশ :
বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তানসহ অন্য দেশগুলো। ভিয়েতনাম ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানে ২৯ শতাংশ। পাকিস্তান আশা করছে, তারা এটি ১০ শতাংশে নিষ্পত্তি করতে পারবে। অথচ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত ৩৭ শতাংশ থেকে সামান্য হ্রাস।
একারণে বৈশ্বিক বাজারে পোশাক রপ্তানি করতে ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তানসহ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা হারাবে বাংলাদেশ।

শ্রমিকদের কর্মহীন হওয়ার শংকা :
বিজিএমইএ’র তথ্যানুযায়ী, দেশে ছোট-মাঝারি মিলে এক হাজার ১০০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। এতে অন্তত দেশের ১০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা দেওয়া বাড়তি শুল্ক কার্যকর হলে এসব কারখানা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ধাক্কা সামাল দিতে না পারলে ছোট-মাঝারি পোশকা কারখানা বন্ধ হওয়া সম্ভাবনা বেশি।
পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের ভাষ্য:
বাংলাদেশ সরকার মার্কিন সরকারের সাথে দর-কষাকষির জন্য প্রয়োজনে লবিইস্ট নিয়োগসহ অন্য দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিশ্চিত করুক। তবে নন-ডিজক্লোজার চুক্তি দেশটির সঙ্গে শুল্ক সুবিধা কমিয়ে আনায় বড় বাধা। এ জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কিভাবে সমাধান করবে সরকার:
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা শুল্ক আরোপ সমাধানে কিছু কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘জিটুজি’ (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টন গম আমদানি করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর সম্ভাব্য মূল্য ভারত, রাশিয়া বা ইউক্রেন থেকে আমদানি করা গমের তুলনায় প্রতি টনে ২০-২৫ মার্কিন ডলার বেশি হতে পারে।
একইভাবে বোয়িং বিমান কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, গ্যাস টারবাইন, সেমিকন্ডাক্টর ও চিকিৎসা সরঞ্জামের আমদানিতে শুল্ক সমন্বয়ের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান গণমাধ্যমে বলেন, ৩৫ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সক্ষমতা হারাবে।
তিনি বলেন, এখন ক্রেতারা পণ্য গ্রহণ নিয়ে কোনো নেতিবাচক বার্তা না দিলেও সরকারকে শক্তভাবে তা মোকাবেলা করতে হবে।
টিবিএম/জ/রা



