― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

প্রবাসীকে হত্যার পর ৮ টুকরো করে ফেলে দিয়ে বিরিয়ানি ভোজন ও ছাদে ‘পার্টি’ করেন মা-মেয়েরা!

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় পরকীয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পাওনা ঢাকাকে কেন্দ্র করে সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়াকে নির্মমভাবে খুনের পর মরদেহ আট টুকরো করার এক লোমহর্ষক ঘটনা উন্মোচন করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ কোনো অনুশোচনা ছাড়াই খুনিরা পরদিন রেস্তোরাঁয় গিয়ে বিরিয়ানি খেয়েছে এবং রাতে বাড়ির ছাদে জমকালো ‘পার্টি’ করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের প্রধান সহযোগী হেলেনা বেগম (৪০) এবং তার মেজো মেয়ে হালিমাকে (১৩) ইতোমধ্যে রাজধানীর মান্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। তবে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা (৩১) এখনো পলাতক রয়েছে।

সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে অবস্থিত র‍্যাব-৩ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানান ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। র‍্যাবের তদন্ত অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মোকাররমের সাথে একই গ্রামের বাসিন্দা অপর প্রবাসী সুমনের ভালো বন্ধুত্ব ছিল। সেই সুবাদে সুমনের স্ত্রী তাসলিমার সাথে মোকাররমের পরিচয় এবং পরবর্তীতে তা গভীর পরকীয়া প্রেমে রূপ নেয়। প্রবাসে থাকাকালীন তাসলিমাকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন মোকাররম। গত ১৩ মে নিজের বাড়িতে কাউকে না জানিয়ে ও বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দেখা করতে তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগমের মান্ডার ভাড়াবাসায় ওঠেন মোকাররম।

সেখানে তাসলিমা ও মোকাররমের মধ্যে টাকা ফেরত এবং বিয়ে করা নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোকাররম হেলেনার ১৩ বছর বয়সী মেয়ের সাথে অসামাজিক আচরণের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মোকাররম তাঁর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে তাসলিমা ও হেলেনা মিলে তাঁকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। পরদিন ১৪ মে সকালে নাস্তার সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মোকাররমকে অচেতন করার পর বালিশচাপা দেওয়া হয়। মোকাররম বাধা দিলে প্রথমে বঁটি দিয়ে গলায় কোপ এবং পরে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর রক্তমাখা ঘর ধুয়ে মোকাররমের মরদেহ বাথরুমে নিয়ে বঁটি দিয়ে কেটে আট টুকরো করা হয়।

লাশ কাটার পর প্রায় ১২ ঘণ্টা ঘরেই পলিথিন ও বস্তাবন্দি করে রাখা হয়। পরে ১৪ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুযোগ বুঝে মরদেহের সাতটি টুকরো বাসার নিচে ময়লার স্তূপে এবং বিচ্ছিন্ন মাথার অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে আসা হয়। এর পরদিন ১৫ মে খুনিরা সবাই মিলে বাইরে ঘুরে হোটেলে বিরিয়ানি খায় এবং রাতে নিজেদের বাসার ছাদে উল্লাস ও পার্টি করে, যেখানে প্রতিবেশীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ১৭ মে এলাকা জুড়ে লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে।