― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

পররাষ্ট্রমন্ত্রালয়ে আলজেরীয় রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঢাকা ও আলজিয়ার্সের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নতুন কার্যভার গ্রহণের পর আলজেরীয় রাষ্ট্রদূতের এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি আলজেরিয়াকে অন্যতম প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে এই খাতে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব ও কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আলজেরীয় সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি জ্বালানি খাতে ঢাকাকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সহযোগিতা প্রদানের ব্যাপারে তাঁর দেশের সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

জ্বালানি খাতের পাশাপাশি বাণিজ্য, বড় অঙ্কের যৌথ বিনিয়োগ, ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ শিল্প, আধুনিক কৃষিব্যবস্থা, সামুদ্রিক মৎস্য চাষ ও জলজ চাষ, আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশই একমত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি আলজেরিয়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নিয়োগের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনাগুলোকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ‘যৌথ পরামর্শক কমিশন’ (Joint Consultative Commission) গঠনের চলমান প্রক্রিয়াকে উভয় পক্ষই স্বাগত জানায়।

দুই ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয় বৈঠকে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বা পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট বৃদ্ধি করা না গেলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থবির হয়ে পড়ে। আলজেরীয় রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করেন এবং ওষুধ ও কৃষি খাতের আধুনিকায়নে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমুখী ও কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুই দেশই আগামী দিনগুলোতে একযোগে কাজ করবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।