― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন আছে। পুলিশও গত বছর আগস্টের পটপরিবর্তনজনিত বিপর্যয় কাটিয়ে পূর্ণোদ্দমে কাজ করছে বলে দাবি করা হলেও মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন। খোদ রাজধানীতেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অনেক সময় পুলিশের দেখা মিলছে না। সারা দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় পুলিশের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ে না।

এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের সাধারণ মানুষ। কারণ, প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। বাড়ছে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য। প্রকাশ্যে ঘটছে একের পর এক লোমহর্ষক-বীভৎস হত্যাকাণ্ড।

এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালনকারী পুলিশ নিজেরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ অনেকটা অসহায় বোধ করছেন।

এ বিষয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুরোপুরি কঠোর ও আরও সক্রিয়তা জরুরি। এদিকে উদ্ধার না হওয়া পুলিশের ও অবৈধ অস্ত্র বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে সাধারণ মানুষদের।

পুলিশের হিসাব মতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বিভিন্ন অপরাধে সারা দেশে মামলা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৮৩টি। এ ছাড়াও সারা দেশে ডাকাতি, দস্যুতা, দাঙ্গা, সিঁধেল চুরিসহ অন্যান্য অপরাধের ঘটনা ঘটলেও ঝামেলা এড়াতে অনেকে মামলা করেননা।

যারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সেই পুলিশ নিজেরাই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৬৮টি। আগস্ট মাসে অন্তত ৩৮টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। জুলাই মাসে এর সংখ্যা ছিল ৫১টি।

গণপিটুনিতে চলতি বছরের আগস্ট মাসে ২৩ জন নিহত ও ৪৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। জুলাই মাসে এমন ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১৬ জন।

রাজধানীর আদাবরে গত সোমবার রাত এগারোটার দিকে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ হামলায় এক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আদাবরের সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১০২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের সাত মাসে সারা দেশে খুনের মামলা হয়েছে ২ হাজার ২৯৩টি। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে ১৩ হাজার ১৩০টি, অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৬২৫টি, ছিনতাই-চুরির ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৩৮৭টি।

এ বিষয়ে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা আটক ও বেশ কিছু পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনার রেশ এখনো কাটাতে পারেনি বাহিনীটি।

এছাড়া সেখানেই যা ঘটনা ঘটুক, তাতে এখন কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুলিশকে কাজ করতে হচ্ছে। এগুলো হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র সমন্বয়ক, সরকার বা মন্ত্রণালয়, বিএনপি, জামায়াত এবং স্থানীয়ভাবে এখনকার প্রভাবশালীরা। এর মধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইন্ধনে সারাদেশে কয়েকটি থানাতেও ‘মব’ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আবার অনেক পুলিশ সদস্য চাকরি হারিয়েছেন। অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। আবার কেউ কেউ বিপদ এড়াতে গা বাঁচিয়ে চলতে চাইছেন। ফলে পুলিশ সব শক্তি দিয়ে কাজ করতে পাড়ছে না।

এ বিষয়ে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, সেনাবাহিনী যে অভিযানগুলোতে যায়, তা মূলত রাজনৈতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশের যে পেশাগত শক্তি কাজ করে সেটি আর সক্রিয় নেই-এমন বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।

তিনি বলেন, এখন অপরাধীরা মনে করছেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানের টার্গেট শুধু রাজনৈতিক নেতারা।

তিনি আরো বলেন, পুলিশের একটি পেশাগত অন্তর্নিহিত শক্তি থাকে, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু এখন বিতর্কিত হবার ভয় কিংবা অন্য কোনো কারণে সেটি দৃশ্যমান নয় বলেই আইনশৃঙ্খলার ক্রমাগত অবনতি ঘটছে।