― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ধোবাউড়ায় কংস নদ থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার: ধর্ষণের পর হত্যার ধারণা পুলিশের

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মাথায় কংস নদ থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যরা এটিকে সাধারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু মনে করলেও, দাফনের পূর্বে গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাত ও ক্ষতের চিহ্ন প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে পুলিশ গভীর রাতে মরদেহটি হেফাজতে নেয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রাথমিক অনুমান, শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে ধোবাউড়া উপজেলায় নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশুটি। স্বজনেরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদের একটি বাঁকে স্থানীয়রা একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়। স্বজনেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং রাতেই দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেন।

নিহত শিশুটির বাবার দেওয়া তথ্যমতে, আসরের নামাজের পর তার মেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। রাতেই দাফনের উদ্দেশ্যে গোসল করানোর সময় উপস্থিত নারীরা শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে ও শরীরে গুরুতর ক্ষত দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে দাফন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে ধোবাউড়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। তথ্য পাওয়ার পরপরই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহটি থানায় নিয়ে আসে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিআইডি (CID) এবং জেলা পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা দল ইতিমধ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুরতহাল ও পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত ‘ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড’। অপরাধের নৃশংসতা ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় ফরেনসিক ও ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর সাথে এমন বর্বর আচরণের ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি করেছে, এবং পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।