নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মানসিক রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি। এর মধ্যে চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছে ৯০ শতাংশ রোগী। আর এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় আক্রান্ত হন।
এমন পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মতো আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৫। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য-‘অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস-মেনটাল হেলথ ইন ক্যাটাস্ট্রোফেস অ্যান্ড ইমার্জেন্সিস’ অর্থাৎ বিপর্যয় কিংবা জরুরি অবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যেন পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে দৃশ্যমান দুর্যোগ কম হলেও এখানে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। দুর্যোগপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর মতো বাংলাদেশেও মানসিক সচেতনতা ও স্বাস্থ্যের চিকিৎসা ঘাটতি আছে।
বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ২০১৮-১৯ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট একটি জরিপ করেছিল। ওই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে লঘু থেকে গুরুতর মাত্রার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা প্রাপ্তবয়স্ক ১৭ শতাংশ। ১৮ বছরের নিচের জনগোষ্ঠী ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মানসিক সমস্যা ও রোগের চিকিৎসার জন্য সারা দেশে সরকারিভাবে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, পাবনা মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতাল রয়েছে।
এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয়ও রয়েছে এ চিকিৎসাসেবা। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক। কিন্তু এগুলো খুবই ব্যয়বহুল। সরকারি পর্যায়ে রোগীর জন্য শয্যা রয়েছে মাত্র ১২৪০টি, যা রোগীর তুলনায় খুবই অপর্যাপ্ত।
মানিসক স্বাস্থ্য নিয়ে বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মুনাইম রেজা মুনিম একটি গবেষণা করেছেন।
তাঁর গবেষণায় দেখা যায়, একজন রোগীর রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাদাতা চিকিৎসকের কাছে যেতে তার সময় লেগে যায় গড়ে ৩৮ মাস। কারও কারও ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত।
এছাড়া,সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সঠিক মনোরোগ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কাছে আসার আগে গড়ে একজন রোগী পাঁচবার ফার্মাসিস্ট, সাধারণ চিকিৎসক, হুজুর, কবিরাজ বা অন্যদের কাছে গেছেন। মাত্র ১৫ শতাংশ যান মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে।
ডা. মো. মুনাইম রেজা মুনিম বলেন, সঠিক চিকিৎসকের কাছে সময়মতো না যাওয়ায় বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়। এতে তাবিজ, পানি পড়া, ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করেন। যেটি তার প্রতিষেধক নয়। চিকিৎসকের কাছে না যাওয়ার কারণ হিসাবে অনেকে ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদু, শারীরিক রোগ ছাড়া মানসিক রোগ নেই ইত্যাদি মনে করেন।
তিনি বলেন, রোগীরা গ্রামের ফার্মেসির ফার্মাসিস্টদের চিকিৎসক মনে করেন। এছাড়া সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে-এমন আশঙ্কায় চিকিৎসকদের কাছে আসতে চান না অনেকেই। এর জন্য সচেতনতা তৈরি, রোগের চিকিৎসা সবখানে পৌঁছানো দরকার।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বার্তা দিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব তার বার্তায় বলেন, ‘আমরা এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সংঘাত, স্থানচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসংখ্য মানুষ মানসিক চাপ ও দুর্দশার মধ্যে রয়েছে ‘



