― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

দিল্লি না গিয়ে ঢাকাতেই শেনজেন ভিসা? পূর্ব ইউরোপের মিশন টানতে গুলশানে কনডমিনিয়ামের প্রস্তাব

পশ্চিমা দেশগুলোর বাজার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসায় বাংলাদেশ সরকার এখন পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সম্পূর্ণ নতুন ধাঁচের ‘আউট অব বক্স’ অর্থনৈতিক কূটনীতি প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় সামান্য কমে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যার সিংহভাগই এসেছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো গুটি কয়েক পশ্চিমা দেশ থেকে। তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং নতুন বাজারের অভাবই মূলত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার এখন পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোকে কাজে লাগাতে বিশেষভাবে তৎপর।

জনসংখ্যার নাটকীয় হ্রাস এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডের মতো পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই অঞ্চলের দেশগুলোতে কর্মক্ষম মানুষের অভাব দূর করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যৌথ উদ্যোগে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ নামের একটি বিশেষ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় প্রাথমিক ধাপে বাংলাদেশের ৩,০০০ দক্ষ পেশাজীবী ও কারিগরি কর্মীকে সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে।

তবে এই বিপুল সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকায় পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর কোনো কনস্যুলার বা কূটনৈতিক মিশন না থাকা। বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের যেকোনো শেনজেন ভিসার আবেদনের জন্য ভারতের নয়াদিল্লিতে যেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। এই জটিলতা নিরসনে বায়রা (BAIRA) নেতৃত্ব এবং কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা গুলশান বা বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বহুতল কনডমিনিয়াম নির্মাণ করে ইউরোপীয় দেশগুলোকে যৌথভাবে মিশন খোলার জন্য বিশেষ লিজ বা প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঢাকাস্থ ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই ভিসা কেন্দ্রগুলো স্থানান্তর করা সম্ভব হলে তা বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসনকে আমূল বদলে দেবে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের শ্রম ঘাটতি মেটাতে ক্রমান্বয়ে অভিবাসন আইন শিথিল করতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি সঠিক সময়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কনস্যুলার সেবা সহজ করতে পারে, তবে এই অঞ্চলটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।