চট্টগ্রাম নগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে হালিমা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে পতেঙ্গা থানার দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হত্যার পরপরই জহিরুল তার ৪ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে পতেঙ্গা থানায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। জহিরুল আগে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী ছিলেন, পরে দেশে ফিরে লেগুনা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় রান্নাঘরের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে—পেঁয়াজু বানানোকে কেন্দ্র করে—দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তপ্ত জহিরুল হাতের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে হালিমার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরই জহিরুল ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান এবং পরবর্তীতে নিজের শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দেন। পতেঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের ভাই বাদী হয়ে জহিরুলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জের বাসিন্দা। তাকে আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জহিরুল জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ প্রয়োজনে রিমান্ডের আবেদন করবে বলে জানিয়েছেন ওসি মোস্তাফা আহম্মেদ। পারিবারিক একটি সাধারণ ভুল বোঝাবুঝি কীভাবে একটি পরিবারের ধ্বংস ডেকে আনল, তা নিয়ে এলাকায় শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।



