আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে এক নজিরবিহীন বাকবিতণ্ডার পর। বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই ঘটনাটি দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা ও তার প্রভাব
ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বৈঠকের পরপরই মার্কিন প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ চুক্তি বাতিল করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনাটি ন্যাটোর ভেতর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিবিসির বিশ্লেষক জেরেমি বোয়েন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ইউক্রেনকে কঠিন চাপে ফেলছেন। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থানের ফলে ইউক্রেন আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
ন্যাটো নিয়ে উদ্বেগ
ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কৌশল ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ১৯৪৯ সালে গঠিত এই সামরিক জোটের মূল চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে তা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, তিনি হয়তো এই ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে পারেন। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা কমিয়ে আনার ইঙ্গিত
ওয়াশিংটন-ইউক্রেন সম্পর্কের অবনতির আরেকটি বড় প্রভাব হতে পারে সামরিক সহায়তা কমে যাওয়া। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে এ সহায়তা কমিয়ে আনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকের পর এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লেখেন, “যখন তিনি (জেলেনস্কি) শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, তখন তিনি ফিরে আসতে পারেন।” এই বক্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, ট্রাম্প ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ দিচ্ছেন।
কূটনৈতিক জটিলতা
ইউক্রেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির এই আকস্মিক পরিবর্তনে কিয়েভ হতাশ। ইউক্রেনের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দি কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ তাদের সম্পাদকীয়তে জানিয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার সঙ্গে একত্র হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”
কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো ইউক্রেনকে কঠোর শর্তে রাজি করাতে চাইছে, অন্যথায় সংকট তৈরি করে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য কিয়েভকেই দায়ী করার পরিকল্পনা করছে।
ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ কী?
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়, তাহলে ইউক্রেনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সামরিক বিশ্লেষক মাইকোলা বিয়েলিয়েস্কোভ বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সমর্থন ছাড়া ইউক্রেনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।”
এই নতুন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—কীভাবে আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখা যায়। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের মুখে কী পদক্ষেপ নেবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বিএম/সজীব



