ঝালকাঠি জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; বরং দিন দিন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই শিক্ষার্থীসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যুর পর পুরো জেলায় এখন গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ঝালকাঠি শহরের কাটপট্টি, বান্দা ঘাট, বাঁশপট্টি, কলাবাগান, স্টেশন রোড, সিটি পার্ক ও ফকির বাড়িসহ মোট নয়টি এলাকাকে ডেঙ্গুর অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঝোঁকিপূর্ণ এলাকায় মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংস, স্প্রে ছিটানো, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ২৯ জন, রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন, নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ভর্তি আছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ঝালকাঠিতে মোট ১ হাজার ৯৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।
ডেঙ্গুর থাবায় প্রাণ হারানো পাঁচজনের মধ্যে শহরের কলাবাগান ও ফকির বাড়ির দুই শিক্ষার্থী রয়েছেন। রোগীদের মধ্যে একজন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে এবং অপর চারজন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার সুবিধা ও পর্যাপ্ত কিট সরবরাহ থাকলেও মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত স্থানান্তরের প্রয়োজন হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানান।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ড. আবুয়াল হাসান জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, স্যালাইন ও অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে শুধু চিকিৎসা দিয়ে এ মহামারি রোধ সম্ভব নয়। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে প্রতিটি বাসাবাড়ির টব, ড্রাম ও আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
মৌসুমী বৃষ্টির দরুন মশার বিস্তার বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে হটস্পটগুলোতে ফগিং ও সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করছে। সাধারণ মানুষকে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ দেখামাত্র দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



