ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোট গঠন নিয়ে তৎপরতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জোট চূড়ান্ত করা ও প্রার্থী তালিকা নিশ্চিত করতে বড় ও ছোট দলগুলোর মধ্যে শেষ মুহূর্তের দরকষাকষি চলছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়তে পারে, এমন গুঞ্জন থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো বড় দলগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন দাখিলের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে চাইছে।
এ পর্যন্ত বিএনপি তাদের আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে ১৬টি আসন ভাগ করেছে। অন্যদিকে জামায়াত গতকাল রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি যোগ দেওয়ায় তাদের জোট আট থেকে বেড়ে ১০ দলে দাঁড়িয়েছে।
জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও, কোন দল কতটি আসন পাবে তা প্রকাশ করেনি। এর আগে এনসিপি ও এলডিপি বিএনপির সঙ্গেও আলোচনা করেছিল, তবে প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পাওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত জামায়াতের জোটে ভিড়েছে।
এদিকে, জামায়াতের সঙ্গে জোট আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই এনসিপিতে একের পর এক প্রধম সারির নেতাদের পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চার নেতাসহ অন্তত পাঁচজন পদত্যাগ করেছেন।
এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে দলটির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং ফেনী-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থীও পদত্যাগ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন মেরুকরণ বাংলাদেশে নতুন নয়। অনেক সময় আদর্শের চেয়ে নির্বাচনে টিকে থাকাই মুখ্য হয়ে ওঠে।
তবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে যে ভাঙন দেখা যাচ্ছে, সেটিকে উদ্বেগজনক ও হতাশাজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াত ও অন্যান্য দলের সঙ্গে এনসিপির এই সমঝোতা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এককভাবে নির্বাচন করা এনসিপির পক্ষে সম্ভব নয় বলেই সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়, বরং একটি নির্বাচনী বোঝাপড়া। দলটির সংস্কার, ন্যায়বিচার ও আধিপত্যবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি অপরিবর্তিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনী সমঝোতা ভোটের পথে থাকা বাধা অতিক্রমে সহায়ক হবে এবং একই সঙ্গে এনসিপির সংস্কারমূলক রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, বিএনপি বিভিন্ন আসনে ঘোষিত প্রার্থীদের রদবদল করছে। এতে কিছু ত্যাগী ও যোগ্য নেতা সুযোগ পাচ্ছেন বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে একই সঙ্গে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দলও বাড়ছে; প্রায় অর্ধশত আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণায় অস্বস্তিতে পড়েছে দলটি।
এ পর্যন্ত বিএনপি ১৭টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে। কয়েকটি আসনে জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও বয়স, ঋণখেলাপি বা অন্যান্য অভিযোগের কারণে প্রার্থী বদল করা হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, আরও কিছু আসনে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়নবঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও সমাবেশ শুরু হয়। শুরু থেকেই তালিকাটি প্রাথমিক বলে জানানো হয়েছিল এবং প্রয়োজন হলে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও ছিল দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে।
তারই ধারাবাহিকতায় রদবদল চলছে বলে জানায় দলীয় সূত্র। তারেক রহমান দেশে ফেরার পর এই প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে এবং সামনে আরও কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলনসঙ্গী আট দলের সঙ্গে এবার এনসিপি ও এলডিপিও যুক্ত হলো।



