ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনায় খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ‘খান স্যার’-এর কোচিং সেন্টারে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত প্রিন্স যাদবের (২৫) নেপালে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব নেপালের বিরাটনগরের একটি হোটেল কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নেপাল পুলিশ। গত শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) প্রিন্স ওই হোটেলে ওঠেন এবং পরদিন রোববার তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে বিহারে অবস্থানরত তাঁর পরিবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এই ঘটনায় হোটেলের একই কক্ষে থাকা প্রিন্সের পাঁচ বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নেপাল পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যালোচনা করে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় প্রিন্স যাদব তীব্র মাত্রায় মদ্যপ ছিলেন। তবে তাঁর চোখে ও মুখের কিছু অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মেলায় এটিকে কেবল ‘অ্যালকোহল পয়জনিং’ বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছে না পুলিশ। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে—এমন সন্দেহ থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত প্রিন্স যাদব পাটনার প্রতিদ্বন্দী ‘জ্ঞান বিন্দু’ কোচিং সেন্টারের অন্যতম মালিক ছিলেন।
তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন। বিহার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সফল প্রার্থীদের নিজেদের শিক্ষার্থী দাবি করা নিয়ে খান স্যারের ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’ এবং রওশন আনন্দ ও প্রিন্স যাদবের ‘জ্ঞান বিন্দু’ কোচিং সেন্টারের মধ্যে চরম বাণিজ্যিক রেষারেষি শুরু হয়। এর জেরে ২ জুন খান স্যারের সেন্টারে ভয়াবহ বোমা হামলা ও ভাঙচুর চালায় প্রিন্সের অনুসারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুড়লে পুরো পাটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর প্রিন্সের বড় ভাই রওশন আনন্দকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রিন্স নেপালে পালিয়ে যান।
দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে আইএএস (IAS) ও ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষার কোচিং দিয়ে ভারতজুড়ে বিপুল জনপ্রিয় ফয়সল খান (খান স্যার)। যেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ২ লাখ রুপি পর্যন্ত ফি নেয়, সেখানে খান স্যার মাত্র সাড়ে ৭ থেকে ১৫ হাজার রুপিতে পড়ান। তাঁর এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই বাণিজ্যিক শত্রুতার মূল কারণ। এই হামলায় নাম জড়ানোয় গ্রেপ্তারি এড়াতে খান স্যার নিজেও আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছেন। এই চরম উত্তেজনার মধ্যে প্রধান অভিযুক্তের নেপালে এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বিহার ও নেপালের সীমান্তজুড়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং পাটনার কোচিং পাড়ায় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



