― Advertisement ―

বৃহস্পতিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

বরিশাল মেইল ডেস্কঃআগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে।আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ...

কারিকুলাম থেকে এআই প্রযুক্তি: প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৫ স্তম্ভে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা

দেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ব্যবস্থার আমূল রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কারিকুলামসহ শিক্ষার ৪টি মূল স্তম্ভ ও একটি নতুন কৌশলগত উপাদানে যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) ঢাকার র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ আয়োজিত ‘কেমব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড লঞ্চ ইভেন্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রূপরেখা উন্মোচন করেন। নতুন এই ভিশনের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের নাগরিক ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থার ৫টি সুনির্দিষ্ট স্তম্ভের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এগুলো হলো—কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের যুগোপযোগী মানোন্নয়ন, জলবায়ু–সহনশীল টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন শিক্ষাধারার মধ্যে সমন্বয় (অ্যালাইনমেন্ট) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ফিউচার জবসের উপযোগী প্রযুক্তির সংযোজন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষানীতিকে সম্পূর্ণ কর্মমুখী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে মাদ্রাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ২৭টিরও বেশি পৃথক শিক্ষাধারা বিদ্যমান রয়েছে। এই বহুত্ববাদী ধারার কারণে তৈরি হওয়া বৈষম্য দূর করার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সব ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে, যেন প্রত্যেকেই মৌলিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সমান সুযোগ পায়।” শিক্ষকদের ভূমিকার তুলনা করে তিনি উল্লেখ করেন, চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি সচল হতে পারে না, তেমনি উপযুক্ত ও দক্ষ শিক্ষক ছাড়া আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা কল্পনা করা অসম্ভব। দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের পেশাদারিত্ব বাড়াতে কেমব্রিজের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশীয় মডেলে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা মনে করছেন, কেমব্রিজের মতো বৈশ্বিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ও গবেষণা পদ্ধতিকে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরে সমন্বিত করা সম্ভব হলে তা দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ সূচকে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোকে পরিবেশ-বান্ধব ও দুর্যোগ-সহনশীল করার উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হচ্ছে।