আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েল টানা ২৩ মাস বা ৭০০ দিন গাজায় বোমাবর্ষণ ও গুলি করে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ হত্যা করেছে। পাশাপাশি গাজা অঞ্চলটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম। গতকাল শনিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে তারা। মিডল ইস্ট মনিটরের খবর।
এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই হত্যাযজ্ঞে গাজার অবকাঠামোর প্রায় ৯০% ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এর সঙ্গে চলছে ‘গণহত্যা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনা।
হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৭০০’রও বেশি মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০,০০০ শিশু এবং ১২,৫০০ নারী রয়েছে। ২,৭০০ পরিবার সম্পূর্ণভাবে নাগরিক নিবন্ধন থেকে মুছে গেছে।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১,৬৭০ জন চিকিৎসাকর্মী, ২৪৮ জন সাংবাদিক, ১৩৯ জন সিভিল ডিফেন্স সদস্য এবং ১৭৩ জন পৌর কর্মচারী। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬২,০০০ এরও বেশি মানুষ, যাদের অনেকেই হাত-পা হারানো, পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া বা দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো জীবন-পরিবর্তনকারী আঘাতের শিকার হয়েছেন।

এ ছাড়াও ৩৮টি হাসপাতাল, ৮৩৩টি মসজিদ এবং ১৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। হাজার হাজার অন্যান্য সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গণমাধ্যম অফিস বলছে, কয়েক লক্ষ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ২৪ লাখ বাসিন্দা – যাদের মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি শিশু – চরম দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়েছে।
গাজাবাসী এর জন্য ইসরায়েল ও এর মিত্রদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে। তারা এখনো আশা করে, আরব ও ইসলামি দেশগুলো, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘ তাদের পাশে দাঁড়াবে। আর আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলি নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করবে।



