― Advertisement ―

ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে পুতিন ও আমিরের ফোনালাপ; কাতারের প্রতি রাশিয়ার সংহতি

মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে যখন পুরো অঞ্চল নতুন করে সংঘাতের কবলে, তখন কাতারের আমিরের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানি হামলার পর কাতারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সংকটময় এই সময়ে মস্কো দোহা’র পাশে আছে। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) আমিরের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সংহতির বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের হামলার পর কাতারের প্রতি রাশিয়ার পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। শুধু কথার খাতিরে নয়, প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের সহায়তা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমর্থন প্রদানে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে বলেও আমির শেখ তামিমকে আশ্বস্ত করেছেন পুতিন। জবাবে আমির শেখ তামিম এই কঠিন সময়ে রাশিয়ার এমন ভ্রাতৃসুলভ সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে রাশিয়ার এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটে মস্কোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রতিফলন।

ফোনালাপে উভয় নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং চলমান উত্তেজনার পারদ কীভাবে নামানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। তারা একমত পোষণ করেছেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। যুদ্ধের দামামা থেকে বেরিয়ে এসে কীভাবে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে উভয় দেশের পক্ষ থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের সঙ্গে রাশিয়ার এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে মস্কো এখন নিজেকে একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার কৌশলগত সখ্যতা থাকার পরও কাতারের মতো মার্কিন মিত্রের সঙ্গে পুতিনের এই সংহতি প্রকাশ আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।