― Advertisement ―

ইরান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না; নেতানিয়াহুর ‘দ্রুত ও চূড়ান্ত’ অভিযানের ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন যুদ্ধের ঘনঘটা, ঠিক তখনই বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই লড়াই কোনো ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ রূপ নেবে না। বরং একে একটি ‘দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক’ অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। নেতানিয়াহুর মতে, সামরিক এই পদক্ষেপের লক্ষ্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং এটি বছরের পর বছর টেনে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই। যদিও পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে নেতানিয়াহু বলেন, তেহরান গোপনে নতুন পারমাণবিক স্থাপনা ও বিশাল ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার তৈরি করছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বাঙ্কারগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য এতটাই সুরক্ষিত হয়ে যেত যে সেখানে হামলা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলাকে তিনি একটি ‘অনিবার্য পদক্ষেপ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, গত জুনের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এর পর থেকেই ইরান এই সুরক্ষিত প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করেছিল, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তবে যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই আশাবাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই আঞ্চলিক সংঘাত অন্তত চার সপ্তাহ বা তার বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। দুই নেতার এই ভিন্নমতের মধ্যে লুকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের এক জটিল সমীকরণ। একদিকে নেতানিয়াহু চাচ্ছেন দ্রুত অপারেশন শেষ করতে, অন্যদিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিচ্ছেন এক দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার। এই বৈপরীত্য বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান এই উত্তেজনা এখন এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি ইরানকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলে এক দাবানল ছড়িয়ে দিতে পারে। নেতানিয়াহু একে ‘সিদ্ধান্তমূলক’ বললেও, যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি যেকোনো সময় পাল্টে যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতি বনাম সামরিক শক্তির এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হবে, তা সময়ই বলে দেবে।