আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়নি। এই হামলায় শুধু ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। গত শনিবার, যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালায়। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত এক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়নি।
পেন্টাগনের গোয়েন্দা শাখা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মজুদ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়নি। মূলত, হামলার ফলে ইরানের সেন্ট্রিফিউজগুলো অনেকটাই অক্ষত রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি সীমাবদ্ধ ছিল স্থলভাগের অবকাঠামো পর্যন্ত।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই হামলা শুধু কয়েক মাসের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পিছিয়ে দিয়েছে, তবে এটি পুরোপুরি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়নি। সেইসঙ্গে ইরান পূর্ব থেকেই কিছু ইউরেনিয়াম মজুদ স্থানান্তরিত করেছিল, ফলে হামলার পরও বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি।
হোয়াইট হাউস অবশ্য পেন্টাগনের এই মূল্যায়নকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং দাবি করেছে, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে জানিয়েছেন, সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে যে দাবি করা হয়েছে, তা মিথ্যা এবং এটি তার প্রশাসনের সফল অভিযানকে ছোট করার চেষ্টা।
মার্কিন হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে কাতারের আল-উদেইদ মর্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয় এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অবশেষে, ট্রাম্প ইসরায়েল ও ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানালে উভয় দেশই যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা দেন।
সূত্র : বিবিসি বাংলা



