― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

আর্থিক সংকটে দুরবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া, বিগত সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়া সহ নানা কারণে আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সূচকগুলোর হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশ থেকে অর্থপাচার, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও লুটপাটে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলার যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যাত্রা শুরু করেছিল তা অনেকটাই ব্যহত হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, শিল্পে শ্রম অসন্তোষ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক ধারা, বিপুল খেলাপি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারের বাজারে অস্থিরতার মতো পুরনো সংকটগুলোতো কাটছেই না তার মধ্যে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন সংকট। তার পরেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আর সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার।

এই সংকট মোকাবেলা করে সামনে এগোতে ও সরকারের পরিকল্পিত চলতি ব্যয় মেটাতেও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ বাড়ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। সরকারি খাতের ঋণ বাড়ায় সার্বিকভাবে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ সামান্য বেড়েছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে সরকারি খাতের ঋণ কমাতে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বলা হয়েছে। তারা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ অব্যাহতভাবে নিম্নমুখিতাকে উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়েনি। বরং কমেছে দশমিক ০৩ শতাংশ। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট এই দুই মাসেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ নেতিবাচক।

এদিকে, বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়লেও রপ্তানি খাত, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছে না। কয়েক বছর ধরেই এ খাতে মন্দা যাচ্ছে। গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে এ খাতে মন্দা আরও প্রকট হয়।

এছাড়া বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে গিয়ে চড়া দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। এছাড়া ঋণের কিস্তি স্থগিত করার কারণে সুদও বেশি দিতে হচ্ছে। ফলে ঋণের বিপরীতে সরকারকে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল্যস্ফীতির হার এখনো ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। প্রায় তিন বছর মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ শতাংশের বেশি থেকে ১১ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘ সময় মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকার কারণে পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়েছে। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষের আয় কমায় তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়াতে হয়েছে।

সরকারের আয়ের প্রধান খাত হচ্ছে রাজস্ব আদায়। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক মন্দা ও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের কারণে রাজস্ব আয় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্টের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

প্রাপ্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, সব খাতে সরকারের খরচ বেড়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে সেই হারে আয় বাড়েনি। ফলে সরকারকে বড় ধরনের ঘাটতিতে পড়তে হচ্ছে। এ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এদিকে সরকারের ঋণের বাজারও ছোট হয়ে আসছে। ব্যাংকে তারল্য সংকট, অর্থনৈতিক মন্দা ও চড়া মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তার আয় কমায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও চাহিদা অনুযায়ী ঋণের জোগান পাচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা চলছে। আগামী এক-দেড় বছরে রাজনীতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন ব্যবসায়ীরা। আবার কারা ক্ষমতায় যেতে পারে, তা-ও তাঁরা বিবেচনায় রাখছেন। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে ব্যবসায়ীদের আস্থায় আনতে হবে।’