― Advertisement ―

রাউন্ড অব ৩২-এ সামনে ফরাসি প্রাচীর; হিয়েনকে হারিয়ে কঠিন পরীক্ষায় গতিশীল সুইডেন

বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে সুইডেন সবসময়ই একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। ফিফা বিশ্বকাপের মোট ২৩টি ঐতিহাসিক আসরের মধ্যে ১৩টিতেই অংশ নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের এই পরাশক্তি। ১৯৫৮ সালের...

অর্থনীতির বড় পরীক্ষা: নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না ব্যাংকের খেলাপি ঋণ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, করোনা মহামারী এবং বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের বহুমুখী প্রভাবে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এখন এক চরম চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট কাটানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রধানতম জাতীয় পরীক্ষা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা দেশের এই অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জনশক্তি রফতানি খাতের সাম্প্রতিক মন্দা। ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে গত মে মাসের তুলনায় জুন মাসে বাংলাদেশের কর্মী রফতানিতে ১৫ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। মে মাসে যেখানে ৬০,১৫৫ জন কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন, জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫১,৩০৫ জনে। যদিও শ্রম রফতানিকারকদের সংগঠন ‘বায়রা’ মনে করছে, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সমৃদ্ধ আরব দেশগুলো তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ শুরু করলে সেখানে বাংলাদেশি অদক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিকদের জন্য পুনরায় বড় বাজার উন্মুক্ত হতে পারে।

এদিকে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের নির্ধারিত ৫৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি আয় হয়েছে মাত্র ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ০.৫৮ শতাংশ কম। তৈরি পোশাক শিল্পের (আরএমজি) উৎপাদন হ্রাস পাওয়াই এই ঘাটতির প্রধান কারণ। তবে অর্থনীতির জন্য একমাত্র স্বস্তির বিষয় হলো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহ। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের ২৩ জুন পর্যন্ত প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেকর্ড ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৮ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতটি দৃশ্যমান হয়েছে ব্যাংকিং খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিকের (Q1) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও অবলোপনকৃত মন্দ সম্পদের পরিমাণ এক লাফে রেকর্ড ৫.৮৮ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ, যার অর্থ ব্যাংকের প্রতি তিন টাকার এক টাকাই এখন চরম ঝুঁকিতে। এই নজিরবিহীন তারল্য সংকট মোকাবিলায় সরকার ‘৩আর’ (Recovery, Restoration, Reconstruction) অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে। এই নীতিমালার আওতায় বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪.৬ থেকে ৪.৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাংকিং খাতের কঠোর সংস্কার ও কর কাঠামো আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।