নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালে হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। দুর্ভোগ বেড়েছে শ্রমজীবী মানুষের। বেড়েছে সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত নানা রোগ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার বরিশালে ১৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দু-এক দিন আরো ঘন কুয়াশা পড়তে পারে জানিয়েছেন উচ্চ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল।
সরেজমিন নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায়ও সকাল থেকে কর্মব্যস্ত বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষ। কেউ কেউ বিভিন্ন উপায়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
নগরীর রাজা বাহাদুর সড়কে কথা হয় রিকশাচালক রিপন মিয়া ও রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তারা জানান, দুই-তিন দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কুয়াশাও পড়ছে অনেক। এতে যাত্রী নেই বললেই চলে। শীতের কারণে তারাও ঠিকভাবে রিকশা চালাতে পারেন না। ফলে উপার্জন কমে গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে সংকটের মধ্যে আছেন।
নগরের বাংলা বাজার এলাকার ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক মনির হোসেন বলেন, আমাদের মতো রিকশাচালকদের জন্য শীত অনেক কষ্টের। তারপরেও জীবিকার তাগিদে ভোরেই বের হতে হয়েছে।

এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ। এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই বাড়ছে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। প্রতিদিন গড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৩৮১ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু। যাদের বেশির ভাগের বয়স ১ মাস থেকে ৬ বছর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এবছর নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিশু। এর মধ্যে মারা গেছে ১৩৫ শিশু। গত বছর ৭ হাজার ২৬৬ জন শিশু নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। আর মারা যায় ২২ জন।
রোগীর স্বজনেরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে তারা রোগীদের হাসপাতালে আনছেন। ভালো সেবা পেলেও শয্যা সংকটে অসুবিধার কথা জানান তারা।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার সাহা বরিশাল মেইলকে বলেন, বুকের খাঁচা ভেঙে যাচ্ছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে অথবা শিশু যদি ভালো খেতে না পারে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।
শেবাচিম হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বরিশাল মেইলকে বলেন, চিকিৎসার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের সবই আছে। পাশাপাশি আমাদের ৫টা শিশু আইসিইউ বেডের কাজ চলছে। যদি এগুলো শেষ হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসা আরও ফলপ্রসূ হবে।
শিশু ও বয়স্কদের প্রয়োজন ছাড়া শীতের ভেতর বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি বরিশাল মেইলকে বলেন, শীতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের যেন কোনোভাবেই স্থানীয়ভাবে অপচিকিৎসা না দেওয়া হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মৃত্যুহারকে শূন্যের কোটায় নিতে যে ব্যবস্থাগুলো নেওয়া দরকার বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ সব পন্থা অবলম্বন করেছে।
বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১ বছরে আরো ২৯ হাজার জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে মারা গেছেন ৪১ জন।



