বরিশাল মেইল ডেস্কঃ
বাংলাদেশের ইতিহাস, আন্দোলনের ইতিহাস। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয়দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এসব আন্দোলনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দিলেও গতি সঞ্চার করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর যে কোনো অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার, যদিও আন্দোলনের নামে সহিংসতা সবসময় পরিত্যাজ্য।
বিগত সপ্তাহ ধরে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কারের লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন পরিচালনা করছে তাকে আমরা যৌক্তিক আন্দোলন বলে মনে করি। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, সরকারের পক্ষ থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে, বিশেষত আন্দোলনকারীদেরকে ষড়যন্ত্রকারী-সহ নানান আখ্যা দিয়ে এবং বল প্রয়োগের মাধ্যমে এ আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যার ফলে আন্দোলন ক্রমশ সহিংস রূপ ধারণ করছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনযায়ী, আজ ১৬ জুলাই ২০২৪, সংঘর্ষের ফলে রাজধানী ঢাকায় একজন, চট্টগ্রামে দু’জন এবং রংপুরে একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এছাড়া গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা করা হয়েছে। আমরা সুজন-এর পক্ষ থেকে এসব ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।
আমরা মনে করি, কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিয়ে আলোচনা-আলোচনার পবিরর্তে তাদেরকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এ সহিংসতা অবসানের এবং সহিংসতায় যারা উস্কানি দিয়েছে ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কারের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সুজন সভাপতি এম হাফিজ খান ও সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য জানানো হয়।


