নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সেনাপ্রধান গতকাল সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আশ্বাস ব্যক্ত করেন।
এ সময় তিনি বলেছেন, সরকারের কর্মসূচি ও উদ্যোগ সফল করতে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
গতকাল সেনাবাহিনী প্রধান প্রথমে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এবং পরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা যতই অপপ্রচার চালাক, সোনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীকে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণের যে প্রত্যাশা সেটি পূরণ করার লক্ষ্যে বাহিনীকে অবশ্যই দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হবে। সাধারণ জনগণ সশস্ত্র বাহিনীর আমানত।
সামরিক বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জায়েদুর রহমানের (অব.) বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি বিশেষ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আইন-শৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে দেশ এখনো নাজুক অবস্থায় আছে। পুলিশ এখনো সম্পূর্ণ কার্যক্ষমতা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অপারগ। এর পেছনে জনগণ ও পুলিশের মাঝে পারস্পরিক আস্থা ও অনাস্থার বিষয়টি যেমন আছে, তেমনই পুলিশের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মব সহিংসতার মতো ঘৃণ্য কাজটি ঘটানো হয়ে থাকে। সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োগ করা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে আশা সঞ্চারিত হয় যে মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর অবদানকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ভূমিকা আরো সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



