মেহেদী হাসান জসীমঃ
কারফিউর গভীর রাতে রক্ত দিয়ে একজন মুমূর্ষ রোগীর প্রাণ বাঁচাতে সহযোগীতা করে
মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পুলিশ। রাত তখন আড়াইটা। সবাই যখন গভীর
ঘুমে মগ্ন তখন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বুদ্ধিমত্তা ও পুলিশের অন্তরিক সহযোগীতায় প্রাণ বাঁচল
গৃহবধূ আয়শা বেগমের। ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের একটি
ক্লিনিকে গত শুত্রবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে।
আয়শা বেগম উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের ইন্দ্রপাশা গ্রামের আবুল হাসান গাজীর স্ত্রী।
হাসান গাজী পেশায় একজন মোটর মেকানিক।
জানা যায়, স্বাভাবিক প্রসবের জন্য একদিন বাসায় চেষ্টা করেন রোগীর স্বজনরা।
এরপর ব্যার্থ হয়ে সন্তান প্রসবের জন্য আয়শা বেগমকে (১৯) শুক্রবার দুপুরে রাজাপুর
পপুলার ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। সেখানে রক্ত স্বল্পতাসহ কিছু জটিলতা নিয়ে রাত ১০টার
দিকে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এরপর রোগীর রক্তস্বল্পতা
দেখা দিলে এক স্বজন রক্ত দেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও
রক্তের প্রয়োজন হয়।
ঘড়ির কাটায় রাত তখন দুইটা অতিক্রম করেছে। বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। এমতাবস্থায়
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহযোগীতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারা ঝালকাঠি সদর থানার
ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে ফোন করেন। ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ফোনে ক্লিনিক
কর্তৃপক্ষকে সহযোগীতার আশ্বাস দেন। তিনি সাথে সাথে ‘এ পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন, এমন
একটি বার্তা পুলিশের মাঝে প্রচার করেন। বার্তাটি পেয়ে দ্রুত সাড়াদেন ঝালকাঠি সদর
থানার কনেস্টবল মো. হাসান নামে একজন মানবিক পুলিশ সদস্য। অপর এক পুলিশ
কর্তকর্তা (এস আই) মো. আরেফিন ইসলামসহ বেশকিছু পুলিশ রক্ত দ্বাতা মো. হাসানকে
সাথে নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঝালকাঠি থেকে রাজাপুর পপুলার ক্লিনিকে এসে পৌঁছান।
শুরু হয় রক্ত নেয়া দেয়ার প্রক্রিয়া। এদিকে মনি আক্তার নামে ক্লিনিকের একজন কর্মচারিও
রক্তদেন আয়শা বেগমকে।
রাত যখন শেষের দিকে তখন দ্বাতাদের দেওয়া রক্তে ধীরে ধীরে গরম হয় আয়শার শরীর।
ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া চোখে প্রাণের স্পন্দন দেখা দেয়।
এই প্রতিবেদকের সাথে কথাগুলো বলছিলেন রাজাপুর পপুলার ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
(এমডি) আব্দুস সাত্তার ও গাইনী সার্জন ডা. মনি রানী দাস।
আয়শার বড়ভাই মো. আজিজুর রহমান বলেন, একেতো কারফিউর রাত তারওপর আবার
তুমুল বৃষ্টি, এমন একটা পরিস্থিতিতে গভীররাতে পুলিশের কাছ থেকে রক্তদানের মতো
সহযোগীতা পাবো ভাবিনি। অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই পুলিশ ভাইদেরকে, যারা
আমার বোনের প্রাণ বাঁচাতে সহযোগীতা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গভীর
রাতে সাধারণ মানুষ যখন ঘুমে থাকে তখন আমাদের রাস্তায় থাকতে হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের উপস্থিত বুদ্ধিমত্তায় আমি খবরটা পাই এবং একজন মুমূর্ষ রোগীর প্রাণ বাঁচাতে
সহায়তা করি। আমি ধন্যবাদ জানাই আমার ডাকে সাড়া দিয়ে যে রক্ত দিয়েছে এবং তাকে
যারা সহায়তা করেছে। আমরা সর্বদাই যেকোন প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গর্বিত হই।



