মাত্র আট মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ গঠনে আবারও এক আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের সময় বোর্ডের প্রধান ছিলেন আমিনুল ইসলাম, আর এবার অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের এই দুই সাবেক নেতার অধীনে আয়োজিত দুটি পর্ষদ নির্বাচনের মূল তফাত কেবল ভেন্যুতে। আগেরটি রাজধানীর একটি বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেলে সম্পন্ন হলেও রবিবারের (৭ জুন, ২০২৬) এই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে।
হোম অব ক্রিকেটের বিসিবি কার্যালয়টিকে আলোকসজ্জায় সাজানো হলেও গত বছরের ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের সঙ্গে এর গুণগত বা কাঠামোগত কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পূর্বের নির্বাচনটি যেমন একপেশে এবং সরকারি প্রভাবের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল, ঠিক একই সমীকরণ দেখা যাচ্ছে বর্তমান আয়োজনেও। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা ৬টায় যে ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে, সমালোচকদের মতে তার চূড়ান্ত রূপরেখা আগে থেকেই নির্ধারিত। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি কেবলই একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রটোকল রক্ষার আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে।
গত এপ্রিলে বিসিবির স্বচ্ছতা ফেরাতে আমিনুল ইসলামের কমিটি ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে বিস্ময়করভাবে, সেই কমিটির ৭ জন সদস্যই এবার সরাসরি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আগের পর্ষদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে যারা অতীতে নির্বাচন বয়কট করেছিলেন, এবার তাদের তৈরি করা নির্বাচনী ছক এতটাই নিশ্ছিদ্র যে কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ প্যানেল দাঁড়ানোর সুযোগই পায়নি। তদুপরি, এবারের প্রার্থী তালিকার এক-তৃতীয়াংশই বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের নিকটাত্মীয়।
পূর্ববর্তী নির্বাচনে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ছকে ক্যাটাগরি-১ থেকে যেভাবে অনুগত কাউন্সিলর ও পছন্দসই প্রার্থী ঠিক করা হয়েছিল, এবারও একই সমীকরণ দৃশ্যমান। ফলে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ১০টি পরিচালক পদের মধ্যে ৭ জনই ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। শুধু খুলনা বিভাগের দুটি এবং বরিশালের একটি পদের জন্য ভোট হচ্ছে, যার মধ্যে বরিশালের তথাকথিত ‘তীব্র লড়াই’ মূলত ক্ষমতাসীন শিবিরের অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ক্লাব ক্যাটাগরিতেও ১২টি পদের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের বেশিরভাগেরই বোর্ডে বসা অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে।



