― Advertisement ―

কোটাবিরোধী আন্দোলন: সড়ক অবরোধ করে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯...

মালয়েশিয়ায় মানবেতর জীবন কাটছে আগৈলঝাড়ার সান্টু মিয়ার

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

৩১ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকছেন আগৈলঝাড়ার সান্টু মিয়া। নিয়মিত টাকা পাঠাতেন বৃদ্ধ মা স্ত্রী-সন্তানদের জন্য। স্বপ্ন ছিল, নতুন বাড়ি করে সবাইকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সান্টু মিয়া এখন মালয়েশিয়া শহরে ছিন্নমুল হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর শহরে বুকিবিন্তান এলাকায় সান্টু মিয়াকে উন্মাদের মতো ঘোরাঘুরি করতে দেখে আগৈলঝাড়ার শাহিন ফকির নামে এক যুবক ভিডিও ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করেন। অনেকদিন খোঁজ না পাওয়া সান্টুকে হঠাৎ ফেইসবুকে দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ভিডিও দেখে গ্রামের বাড়িতে তার মা মেরেজান বেগম মৃত্যুর আগে ছেলেকে এক নজর দেখার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দু-হাত তুলে ফরিয়াদ জানান। ৩১ বছর আগে মালয়েশিয়া যাওয়া সান্টু মিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবার সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

প্রবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা গ্রামের আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে সান্টু মিয়া সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ১৯৯৩ সালে একটি কোম্পানীতে ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া যান। কোম্পানীতে কাজ করে গ্রামের বাড়িতে অর্থ প্রেরনসহ নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও কিছুদিন পর মালয়েশিয়ার নাগরিক এক মেয়েকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছিলেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। এর কিছুদিন পরে স্ত্রীর ভাইয়েরা সান্টু মিয়াকে নেশা করার অভিযোগে বেদম মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়। আবুল হোসেন মিয়ার পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সান্টু তৃতীয় সন্তান। পিতা আবুল হোসেন মিয়া (৬৫) ও ছোট বোন ববিতা আক্তার (১৪) ২০০৩ সালে ঢাকা-বরিশাল লঞ্চ ডুবিতে মৃত্যু হয়েছিল। অন্য ভাইয়েরা পিতার মৃত্যুর পরে বাগধা গ্রাম থেকে খাজুরিয়া গ্রামে বর্তমানে বসবাস করছে। সান্টু মিয়া প্রথম যে কোম্পানীর ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন ওই কোস্পানীর কাছে তার পাসপোর্ট জমা থাকার কারনে কোন স্থানে নতুন করে কাজে যোগদান করতে পারেনি। এরপরেই সান্টু মিয়ার শুরু হয় ভবঘুরে জীবন যাপন। এ জন্য একাধিবার মালয়েশিয়া অবস্থানকালে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে ছিলেন।
দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া থাকার কারণে অন্য কয়েকটি দেশের ভাষাও জানতেন তিনি। তখন ওই দেশে তার নামে রোহিঙ্গাদের জন্য করা ইউএন কার্ড করেছিলেন। একারনে একবার দেশে আসার জন্য বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় ইউএন কার্ডে তার নাম থাকায় সে দেশে আসতে পারেনি। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর শহরে বুকিবিন্তান এলাকায় সান্টু মিয়াকে অর্ধ উন্মাদ অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে দেখতে পেয়ে বাংলাদেশের শাহিন ফকির মঙ্গলবার ভিডিও ধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট দিলে তোলপাড় শুরু হয় দেশে থাকা তার পরিবারের লোকজনের মাঝে।

সরেজমিন সান্টু মিয়ার গ্রামের বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামে গেলে তার মা মেরেজান বেগম মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো ছেলেকে একনজর দেখার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দু-হাত তুলে চোখের জল ফেলছেন। ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানায়।
এব্যাপারে বাগধা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি বলেন, সান্টুকে মালয়েশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তার পরিবার আমার কাছে সহযোগীতা চাইলে সকল ধরনের সহযোগীতা করা হবে।

মালয়েশিয়া থাকা শাহিন ফকির ফোনে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে মালয়েশিরার বুকিবিন্তান এলাকায় সান্টু মিয়াকে অর্ধ উন্মাদ অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে দেখতে পেয়ে তার ভিডিও ধারন করে বাংলাদেশের এক গনমাধ্যম কর্মীকে পাঠাই। স্যোশাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হলে সান্টুর পরিবার থেকে তাকে খোঁজার জন্য সান্টুর নিকট আত্মীয় কাইয়ুম মিয়া ও শামীম মিয়া আমার কাছে আসলে তিনজন মিলে দুইদিন খুঁজে এখনও সান্টুকে পাইনি। আশাকরি পাওয়া যাবে।