― Advertisement ―

ভারতের নতুন হাইকমিশনারকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিল মোদি সরকার

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর (Union Cabinet Minister) পদমর্যাদা প্রদান করেছে দেশটির বিজেপি সরকার। গত বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ দাপ্তরিক আদেশে এই সাড়াজাগানো সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। তবে সরকারি ওই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীনেশ ত্রিবেদীকে দেওয়া এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদমর্যাদাটি মূলত আনুষ্ঠানিক প্রটোকল রক্ষা এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক লিয়াজোঁ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য হবে।

ভারতের সাবেক সফল রেলমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর আসনের সাবেক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য দীনেশ ত্রিবেদীকে গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি। এরপর ৫ জুন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় এসে পৌঁছান। কূটনৈতিক মিশন শুরুর ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন, ২০২৬) তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র (Credentials) পেশ করেছেন। এই বিশেষ প্রটোকল বৃদ্ধির ঘটনাকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে সংঘটিত এক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। বাংলাদেশে সংঘটিত এই বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই নিকটতম প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সম্পর্কে যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও একধরনের মনস্তাত্ত্বিক তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সুষম ও গভীর স্তরে এগিয়ে নিতেই নরেন্দ্র মোদির সরকার এই প্রবীণ ও ঝানু রাজনীতিবিদকে বিশেষ ক্ষমতাসহ বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। হাইকমিশনারকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া প্রমাণ করে যে, নয়াদিল্লি বর্তমান বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ব্যক্তিগত প্রোফাইল অনুযায়ী, গুজরাটি বংশোদ্ভূত দীনেশ ত্রিবেদী দুই বাংলার সমসাময়িক রাজনীতি, দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির গভীর তলানি সম্পর্কে অত্যন্ত নিখুঁত ধারণা রাখেন। রাজনীতি ছাড়াও একজন দক্ষ সেতারবাদক হিসেবে সুশীল সমাজে তাঁর বিশেষ সুখ্যাতি রয়েছে। হিমাচল প্রদেশের নামকরা বোর্ডিং স্কুল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি কলকাতার ঐতিহাসিক সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে এমবিএ (MBA) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।