― Advertisement ―

কোটাবিরোধী আন্দোলন: সড়ক অবরোধ করে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯...

বরিশালে মানবপাচার মামলায় তিনজনের দণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট

বরিশালের হিজলায় মানবপাচার আইনে দুটি ধারায় দুই ভাই ও তাদের একজন স্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বরিশাল মানবপাচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এই রায় দেন।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রাহুতকাঠি এলাকার বাসিন্দা কাতার প্রবাসী জসিম উদ্দীন হাওলাদার, তার স্ত্রী জান্নাতুর রহমান যূথী এবং ছোট ভাই ভানুয়াতু প্রবাসী পলাশ হাওলাদারকে মানবপাচার আইনের দুটি ধারায় দণ্ডিত করা হয়েছে।

জসিম উদ্দীন হাওলাদার ও পলাশ হাওলাদার দুই ভাইকে পৃথক দুটি ধারায় যাবজ্জীবন ও ১৪ বছরের কারাদণ্ড, ৪৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যান্নাতুর রহমান যূথী তাকে দুই ধারায় ১৭ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার বাদী, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেন, অভিযোগ করেন যে, তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্রে সজল জমাদ্দারের মাধ্যমে পলাশ হাওলাদারের প্রস্তাবে একদিকে তাকে কিউবা নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবের পর, মোফাজ্জেল ও সজল পলাশের ভাই জসিম উদ্দীন এবং তার স্ত্রীকে মোট ২১ লাখ টাকা দেন।

এরপর, ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর মোফাজ্জেলসহ আরও ১০ জনকে কলকাতা, দিল্লি, সিঙ্গাপুর ও ফিজি হয়ে ভানুয়াতু পৌঁছানো হয়। সেখানে পলাশ তাদেরকে একটি নির্জন বাসায় আটকে রাখে এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু, অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়নি। পরে, ভানুয়াতুতে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকার পর কয়েকজন পুলিশের কাছে ধরা পড়ে।

পলাশের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগ ওঠে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া, মোট ১০৩ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এছাড়া, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর মোফাজ্জেল হোসেন মানবপাচার আইনে মামলাটি বরিশাল মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করেন। মামলায় মোট ৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার কার্যক্রম চলছিল। আদালত ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এই রায় ঘোষণা করেছেন।

রায়ে জসিম উদ্দীন ও পলাশ হাওলাদারকে মানবপাচার আইনের ৬ ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৭ ধারায় জসিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যূথীকে ৬ ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৭ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীদের দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার রায়ের পর বাদী মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, যদি রায় কার্যকর হয়, তবে আমি খুশি হব।” অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

এছাড়া, মামলার অপর দুই আসামি, হারুন অর রশিদ এবং এনামুল হক এর বিচার কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।