নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নাজিরপুরে শামীমা আক্তার (১২) নামে এক কিশোরী এপেন্ডিস রোগের চিকিৎসা না পেয়ে যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি পরিবারের। গতকাল বুধবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের চরখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শামীমা চরখোলা গ্রামের জালাল উদ্দীন শেখের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী ছিল।
এ বিষয়ে তার ভাই খাইরুল শেখ জানান, সকালে ঘরের সবাই যখন কাজের জন্য বাহিরে ছিল, তখন শামীমা ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজের ওড়না দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করে কোনো সারাশব্দ না পেয়ে মা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে শামীমার গলায় ওরনা জড়ানো অবস্থায় আড়ার সাথে ঝুলে থাকতে দেখে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়া গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। শামীমা বাড়ীর পাশের মহিলা মাদ্রাসায় পড়তো। সে দীর্ঘ দিন ধরে এপেন্ডিসাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলো। ধারনা করছি সে এপেন্ডিসের ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জীনাত তাসনিম জানান, রোগীকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিলো, তখন তার হাত-পা ঠান্ডা ছিলো। এরপরে আমরা বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা ও ইসিজি করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হই।
এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া জানান, আমরা পরিবারের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, মেয়েটি এপেন্ডিসাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলো। পরিবার তার চিকিৎসা না করার ক্ষোভে সে আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের পুলিশের তদন্ত অব্যাহত আছে।



