― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

নলছিটিতে লাশের খাটিয়ায় পিকআপের ধাক্কা, ৪ স্বজন আহত এবং গাড়িতে ক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি লাশের খাটিয়ায় বেপরোয়া গতির পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহতের ছেলে ও ভাইপোসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ধাক্কার তীব্রতায় খাটিয়ায় থাকা মৃতদেহটি মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গেলে এক অভূতপূর্ব ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও নিহতের স্বজনেরা চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ঘাতক পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) রাত সাড়ে আটটার দিকে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের দপদপিয়া ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারপুর গ্রামের এক বাসিন্দার মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করতে স্বজনেরা খাটিয়ায় করে মরদেহটি কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় মহাসড়ক পার হওয়ার বা পাশ দিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে পটুয়াখালীগামী একটি দ্রুতগতির মালবাহী পিকআপ ভ্যান খাটিয়াবাহকদের সজোরে ধাক্কা দেয়। গাড়ির নিচে চাপা পড়ে খাটিয়ার হাতল ভেঙে যায় এবং বহনকারীরা ছিটকে পড়েন। একই সাথে পবিত্র মরদেহটি রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও শোকার্ত পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন— মৃত ব্যক্তির আপন ছেলে মো. ওলি, শ্যালক নাছির, ভাগনে মো. রেজা এবং নিহতের কন্যাসন্তানের ঘরের এক নাতি। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুইজনের মাথায় ও পায়ে মারাত্মক জখম থাকায় তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরপরই ঘাতক চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

দুর্ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ শত শত এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং ঘাতক পিকআপটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এর ফলে বরিশাল-পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা রুটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। রাস্তার দুপাশে আটকা পড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে নলছিটি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়।