― Advertisement ―

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদকে ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ; সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার (১৪ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) আবেদনের প্রেক্ষিতে ইন্টারপোল কর্তৃক জারিকৃত ‘রেড নোটিশ’-এর ভিত্তিতে গত ১২ জুন আমিরাত পুলিশ তাঁকে আটক করে। এটি বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেনজীর আহমেদকে আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা শুরু করে। গত বছরের ১১ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি শাখা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠায়। দীর্ঘ মনিটরিংয়ের পর ইন্টারপোল সেই আবেদন গ্রহণ করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়। গত শুক্রবার দুবাই পুলিশের এনসিবি শাখা ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। বর্তমানে তিনি দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী আরও জানান, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আমিরাত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ‘এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট’ বা প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠাতে হবে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭ (জালিয়াতি), ৪০৮ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪৭১ (নকল দলিল ব্যবহার) এবং ১৯৭৪ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনসহ ১৯৭৩ সালের পাসপোর্ট অর্ডারের বিভিন্ন ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব দ্রুত এই প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আমিরাতের সঙ্গে সুসমন্বয়ের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই তাঁকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের আপসহীন অবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ।