― Advertisement ―

ঢাকা-আঙ্কারা অংশীদারত্ব নতুন ধাপে নেওয়ার ঘোষণা তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি কৌশলগত ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে আঙ্কারা। দৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা এই কূটনৈতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে বিশেষ করে প্রতিরক্ষাশিল্প, অবাধ বাণিজ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে তুরস্ক। তিন দিনের এক সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসে ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় ও একান্ত বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত মার্চ মাসে আঙ্কারায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের মাত্র তিন মাসের মাথায় এই ত্বরিত ঢাকা সফর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রায় ৩০ মিনিট একান্ত বৈঠক (ওয়ান-টু-ওয়ান) করেন, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে যৌথ অবস্থানের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রত্নসম্পদ রক্ষা, জাদুঘর ব্যবস্থাপনা এবং মহাফেজখানার নথি ও লাইব্রেরি সামগ্রী সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পারশ্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতি সমর্থন করে। বাংলাদেশ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা বিশ্বে বন্ধু ও অংশীদার চায়, কোনো প্রভু নয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে বাংলাদেশকে একটি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা, যা বাস্তবায়িত হলে তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের তুর্কি বিনিয়োগ আসবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে তুরস্কের আধুনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তুর্কি বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানে বৈশ্বিক স্তরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন হাকান ফিদান। সিউল থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছানো তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুপুরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান এবং শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন।