চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পণ্যবাহী একটি ভারী ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে হাবিবুর রহমান (৪০) নামে এক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে সেটিকে আটক করে এবং এর চালক ও হেলপারকে গণপিটুনি দেয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কালিদাসপুর সাদাব্রিজ এলাকায় আলমডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল গণমাধ্যমকে দুর্ঘটনার সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হাবিবুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অন্তর্গত পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের মাজিলা গ্রামের আলী আকবর হোসেনের ছেলে। তিনি পেশাগত প্রয়োজনে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে হাবিবুর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গার অভিমুখে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মোটরসাইকেলটি আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর সাদাব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা ‘আসাদ অ্যাগ্রোটেক লিমিটেড’-এর একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। এতে হাবিবুর রহমান মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে ট্রাকের চাকার নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হওয়ায় নিহতের মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনা ঘটানোর পরপরই চালক ট্রাক নিয়ে দ্রুত গতিতে কুষ্টিয়ার দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে আলমডাঙ্গার জগন্নাথপুর নামক এলাকায় গিয়ে ঘাতক ট্রাকটি অবরুদ্ধ করতে সক্ষম হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকের চালক ও সহকারীকে (হেলপার) ধরে গণপিটুনি দেয়। তবে মারধরের একপর্যায়ে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ এবং চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। হাইওয়ে প্রটোকল মেনে পুলিশ নিহতের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন (Inquest Report) তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক চালক ও হেলপারকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।



