আবদুল্লাহ্ জুয়েল
ভোলার মনপুরায় জলদস্যুদের আগাম টাকা দিয়ে টোকেন নিয়ে মেঘনা নদীতে জেলেদের জাল ফেলতে হয়। তা না হলে হামলা আর অপহরণ আতঙ্ক নিয়ে নদীতে যেতে হয়। আতঙ্কে রাতের বেলা মাছ ধরতে যাওয়াই যাচ্ছেনা।
জেলেরা বলছেন, রাতে নদীতে মাছ শিকারে গেলেই দস্যুবাহিনী হামলা চালিয়ে লুটে নেয় জাল, নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম। কখনও অস্ত্রের মুখে জেলেদের অপহরণ করে নিয়ে যায়, পরে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিলে তবেই তাদের মুক্তি মেলে।

জেলেদের আরও অভিযোগ, নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রতি ট্রলারে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে অগ্রিম দিয়ে ‘বিশেষ টোকেন’ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই টোকেন না নিলে ডাকাতদের হামলার শিকার হতে হয়। ডাকাতদের হুমকির কারণে জেলেরা এসব তথ্য গোপন রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করছেন না।
জানা যায়, গত ২৭ জুলাই রাতে মনপুরার দক্ষিণে পাতালিয়ার চর ও নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন রহমানপুর গ্রামের তিন জেলে—গিয়াসউদ্দিন মাঝি, মিলন মাঝি ও রাজিব মাঝি। হঠাৎ একদল জলদস্যু তাদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে। পরে লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা মাঝের ঘাটের জেলে মো. গিয়াসউদ্দিন মাঝি জানান, ওই রাতে তিনি ও আরও ৯ জন জেলে মেঘনার মনপুরা ও হাতিয়া উপজেলার মাঝামাঝি এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে ১৫-২০ জনের একটি ডাকাত দল তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা মাছ ও জাল লুটে নিয়ে যায় এবং গিয়াসউদ্দিনসহ আরও দুই মাঝিকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে। পরে ডাকাতরা তাদের মোবাইল ফোন থেকে আড়ৎদার ও পরিবারের সদস্যদের ফোন করে লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবার থেকে বিকাশ ও নগদে টাকা পাঠানোর দুই দিন পর রাতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

জলদস্যুদের টোকেন সংক্রান্ত বিষয়ে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. হাফিজ মাঝি ও মো. হারুন মাঝি জানান, এ বছর ভরা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাকাতরা টোকেন বিক্রি শুরু করেছে। টোকেন না নিলে ট্রলারে হামলা, লুটপাট এবং অপহরণের ঘটনা ঘটছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা ৫-১০ হাজার টাকার বিনিময়ে টোকেন সংগ্রহ করেছেন। তবে কীভাবে ও কার মাধ্যমে এই টোকেন সংগ্রহ করেছেন, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তারা। শুধু বলেন, “ডাকাতদের সোর্স প্রতিটি মৎস্য ঘাটে রয়েছে।”
এ বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবীর জানান, এ নিয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ জানান, জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ ধরা পড়ায় ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাকাতদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি ও সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।



