― Advertisement ―

লোকে জানল, তিনি ব্র্যাড পিটের প্রেমিকা

প্রেমিকাকে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা শুরু করেছেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট। এতদিন তার গোপন প্রেম নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ফিসফাস, সেসব বন্ধ করে দিলেন এই...

কৌশিক হোসেন তাপস: মিডিয়া মাফিয়া থেকে ‘পাওয়ার কাপল’ পর্যন্ত উত্থানপতনের গল্প

বরিশাল মেইল ডেস্কঃ কৌশিক হোসেন তাপস—বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের এক বহুমুখী পরিচিতি। তিনি কখনো গায়ক, কখনো সুরকার, আবার কখনো সংগীত পরিচালক। এছাড়া দেশের একমাত্র সংগীতনির্ভর টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও তার খ্যাতি। এই চ্যানেলে প্রায়ই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক তারকাদের উপস্থিতিতে রাতভর চলত আড্ডা, গান এবং নানা আয়োজন, যেখানে মধ্যমণি থাকতেন তাপস ও তার স্ত্রী ফারজানা মুন্নী।

তাপসের সংগীতজীবনের উত্থান দ্রুত ঘটেছে। তার পরিচিতি ছিল একজন তবলা বাদক হিসেবে, কিন্তু মুন্নীর হাত ধরেই মিডিয়ায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন তিনি। এই উত্থানের পেছনে যেমন ছিল তাপসের নিজের বুদ্ধিমত্তা, তেমনি ছিল স্ত্রী ফারজানা মুন্নীর ‘জাদুর কাঠি’র প্রভাব। মুন্নী দেশের একজন পরিচিত রূপচর্চা ও ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ এবং একসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বিউটিশিয়ান হিসেবেও কাজ করেছেন।

ফারজানা মুন্নীকে ব্যবহার করেই তাপস আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি অঙ্গনে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন। একসময় দলটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, সংগীতের আড়ালে তাপস বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি গান বাংলার নামে ইউক্রেনসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে তরুণীদের এনে তাদের অনৈতিক কাজে ব্যবহার করতেন। এভাবে আওয়ামী লীগের নেতাদের এবং উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন।

তাপসের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফারজানা মুন্নী, যিনি তাপসের চেয়ে বয়সে বড় এবং দুই সন্তানের মা, তাকে বিয়ে করার আগে তাপস তার বড় মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখান থেকেই তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে বিয়ে হয়। বিয়ের পর এই দম্পতি নিজেদের মিডিয়ার ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে সাংস্কৃতিক আয়োজন, সবখানে তাদের প্রভাব দেখা যেত।

তাপস প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও নিজের ইচ্ছামতো কাজ চালিয়ে গেছেন। ২০২২ সালের মার্চে ঢাকায় সানি লিওনকে আনেন তাপস, যদিও তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাপস নিজের মেয়ের বিয়েতে সানি লিওনের নাচের আয়োজন করতে চেয়েছিলেন এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বলিউড তারকাকে ঢাকায় আনেন। ১৩ ঘণ্টার সফরের পর সানি লিওন কোনো বাধা ছাড়াই বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।

২০২৩ সালের শেষের দিকে তাপস ও মুন্নীর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের সঙ্গে ফারজানা মুন্নীর একটি কল রেকর্ড ফাঁস হলে জানা যায় যে তাপসের অভিনেত্রী শবনম বুবলীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে মুন্নী অভিযোগ করেন। মুন্নী দাবি করেন, বুবলী তার সংসার ভাঙার চেষ্টা করছেন। তবে তাপস এই অভিযোগও সামলে নেন এবং পরে স্ত্রীকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিকদের জানান, তাদের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, কিন্তু কোনো অনৈতিক সম্পর্কে তিনি জড়াননি।

তাপসের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে তিনি গান বাংলা চ্যানেলের মালিকানা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছেন। ২০১১ সালে রবিশঙ্কর মৈত্রী গান বাংলার লাইসেন্স পেলেও ২০১২ সালে তাপস ও মুন্নী শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত হন। পরবর্তীতে রবিশঙ্করের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে চ্যানেলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন তারা।

তাপস আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের দায়িত্ব নিজের করে নিতেন, যার মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের লাল-সবুজের মহোৎসব ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। এসব আয়োজন থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন তাপস। এসব কাজের জন্য তিনি প্রায়শই ব্যবহার করতেন স্ত্রী ফারজানা মুন্নীর পরিচিতি ও চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আনা তরুণীদের।

ফারজানা মুন্নীর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে তাপস তার অপকর্ম চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।