নিজস্ব প্রতিবেদক :
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে ঝিমিয়ে পড়েছে জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যক্রম। আবার দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরপরই বেশি করে দলের মধ্যে প্রভাবশালী নেতাদের রদবদল, অব্যাহতি আর বহিষ্কার শুরু হয়।
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠা:
গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠা করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
প্রতিষ্ঠাতার এরশাদের মৃত্যু:
২০১৯ সালের ১৪ জুলাই সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
পদ-পদবী নিয়ে কোন্দল:
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবিত থাকা অবস্থায়ই জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে যে দলীয় কোন্দল শুরু হয়৷ সেই কোন্দল এরশাদের মৃত্যুর প্রায় অর্ধযুগেও সমাধান হয়নি৷ দিন দিন তা আরও বেড়েছে।
এরশাদের বেঁচে থাকা অবস্থায় পার্টির পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও তার স্ত্রী রওশন এরশাদের মধ্যে।
তবে রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে সাদ এরশাদকে দলীয় প্রার্থী করার মাধ্যমে জি এম কাদের আর রওশন এরশাদের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা হয়।
নবম কাউন্সিল:
এই কাউন্সিলে চেয়ারম্যান হন এরশাদের ছোটভাই জি এম কাদের। আর কৌশলে কাউন্সিলে নতুন পদ সৃষ্টি করে রওশন এরশাদকে ‘চিফ প্যাট্রন’ করে কোনঠাসা করা হয়৷
এছাড়াও দলের মধ্যে রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, এস এম ফয়সল চিশতী, রুহুল আমিন হাওলাদারকে কো-চেয়ারম্যান করে নিজের পক্ষে টেনে নেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ফলে বর্তমানে পার্টিতে রওশনের তেমন কোনও প্রভাব নেই বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। দলটির মহাসচিব পদেও এসেছে বার বার রদবদল।
সবশেষ ভাঙনে দলটি:
গতকাল সোমবার বিকেলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে মহাসচিব মো. মুজিবুল হককে (চুন্নু) অব্যাহতি প্রদান করে শামীম হায়দার পাটোয়ারিকে মহাসচিব নিয়োগ প্রদান করেছেন। একই সাথে পার্টির সিনিয়র কো চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
কেন ফের বিরোধ সৃষ্টি হলো:
পার্টির বৈঠকে গঠনতন্ত্রের একটি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব উঠেছে। ২০(ক) হিসেবে পরিচিত ওই ধারা অনুযায়ী- দলের চেয়ারম্যান যে কোনো সময় যে কোনো পদবীর নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
তাই গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানের ‘যাকে ইচ্ছে তাকে বাদ দেওয়ার’ ক্ষমতা বাতিল নিয়ে জি এম কাদেরের সঙ্গে এবারে বিরোধ তৈরি হয়েছে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদারের।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় পার্টির গত ২৫ জুনের মতবিনিময় সভায় জেলা, মহানগর কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকেরা সিনিয়র কো চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মো. মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এরপর ২৮ জুন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সভায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই তিন নেতাকে সব পদ-পদবী থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পটপরিবর্তনের পর দলের অবস্থা:
গত বছর অগাস্টে পটপরিবর্তনের পর সেনাপ্রধান যে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের তার বৈঠকে ডেকেছিলেন সেখানে জাতীয় পার্টিও ছিলো। কিন্তু এরপর প্রধান উপদেষ্টা যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা শুরু করেন তখন সেই আলোচনায় আর ডাক পায়নি দলটি।
মামলা:
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানসহ দলীয় নেতৃকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে মামলা হচ্ছে।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, কেন্দ্র দখল, হত্যাচেষ্টা, আওয়ামী লীগের দোসরসহ আরও অনেক অভিযোগ দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলার আসামী হচ্ছেন নেতাকর্মীরা।
বিরোধী দল:
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনা সরকারে টানা তৃতীয়বার জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল ছিলো জাতীয় পার্টি।
টিবিএম /জ/রা



