পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম ও বহুস্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি ‘ক্যাম্প বুহরিং’-এ চালানো একটি দুঃসাহসিক ও হাই-রিস্ক কাউন্টার-অফেনসিভ অভিযানের রোমহর্ষক বিবরণ প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এনেছেন ইরানের বিমানবাহিনীর একদল ফাইটার পাইলট। সম্প্রতি একটি বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে গত মার্চে কুয়েতের অভ্যন্তরে অতি-নিম্ন উচ্চতা (Ultra-low altitude) দিয়ে রাডার ফাঁকি দিয়ে চালানো ওই অভিযানের সামরিক কৌশল ও অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন মিশনের ফ্রন্টলাইন কমান্ডাররা। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মীনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পুরো ইরানি বিমানবাহিনীতে যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, মূলত তারই প্রতিশোধ হিসেবে মাত্র ৫০ মিনিটের এই ঝটিকা বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়।
মিশনের প্রধান কমান্ডার জানান, ইরানি ভূখণ্ডে বিদেশি জোটের আগ্রাসন শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই স্পর্শকাতর পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার ব্লুপ্রিন্ট চূড়ান্ত করা হয়। আইডিএফ ও পেন্টাগনের শক্তিশালী আর্লি ওয়ার্নিং রাডার নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর করতে পাইলটরা মাটির কাছাকাছি মাত্র ৫০ ফুট উচ্চতা দিয়ে এফ-৫ যুদ্ধবিমান ওড়ানোর বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নেন। অত্যন্ত নিচু দিয়ে ওড়ার সময় কোথাও কোথাও তাদের হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের নিচ দিয়ে এবং ছদ্মবেশে পারস্য উপসাগরের প্রতিবেশী দেশগুলোর জলসীমা ব্যবহার করতে হয়েছিল। রাডার স্ক্রিনে ধরা না পড়তে তারা সম্পূর্ণ ‘রেডিও সাইলেন্স’ বা বেতার নীরবতা বজায় রাখেন এবং একপর্যায়ে সাগরে ভাসমান দুটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের মাঝখানের অত্যন্ত সংকীর্ণ আকাশপথ দিয়ে নিজেদের ফাইটার জেট নিয়ে কুয়েত সীমান্তে প্রবেশ করেন।
কুয়েতের আকাশসীমায় ঢুকে তীব্র গতিতে ক্যাম্প বুহরিং ঘাঁটির ওপর চড়াও হয়ে ইরানি পাইলটরা কোনো গাইডেড মিসাইল ছাড়াই প্রথাগত মুক্ত-পতন (Free-fall) বোমার সাহায্যে নিখুঁত ও ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেন। চোখের পলকে ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান এবং স্ট্র্যাটেজিক রানওয়েগুলো ধ্বংস হয়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। পাইলটদের দাবি, এই আকস্মিক ও তীব্র আঘাতের ফলে মার্কিন কমান্ড সেন্টার ও স্থানীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে চরম কৌশলগত বিভ্রান্তির (Tactical Disorientation) সৃষ্টি হয়। এই বিশৃঙ্খল উত্তেজনার মুখে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভুলবশত নিজেদের মিত্র মার্কিন বিমানবাহিনীরই ৩টি অত্যাধুনিক এফ-১৫ ফাইটার জেটকে শত্রু বিমান মনে করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করে।
মিত্র বাহিনীর এই নজিরবিহীন ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ এবং মারাত্মক যুদ্ধকালীন ভুলের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কুয়েত ও পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। অন্যদিকে, ইরানি স্কোয়াড্রন একটি নিখুঁত ডাইভারশনারি মেকানিজম বা বিভ্রান্তিমূলক ডিকয় কৌশল চালনা করায় মার্কিন কমব্যাট এয়ার প্যাট্রোল তাদের ধাওয়া করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় এবং অভিযানে অংশ নেওয়া সবকটি ইরানি যুদ্ধবিমান পূর্বনির্ধারিত ঘাঁটিতে নিরাপদে অবতরণ করে। সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া অন্য এক পাইলট আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, দেশের মানুষের সুরক্ষায় তারা জীবন বা সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত ছিলেন না এবং বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় কেবল হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তা এই মিশনের ছক জানতেন।



