রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) কোতোয়ালি থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানসহ একাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) রাতে থানার কলাপসিবল গেটের ভেতরে এই বর্বর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা থানায় গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় রাতেই নগরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আরপিএমপির পক্ষ থেকে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হেফাজতে নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং কনস্টেবল লিমা সরেনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত করতে আরপিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি পারিবারিক নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সিও বাজার এলাকার একটি নিখোঁজ প্রেমিক যুগলকে উদ্ধারের পর সমঝোতার জন্য ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম পরিবারের অনুরোধে থানায় যান। রাকিবুলের অভিযোগ, রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি থানায় প্রবেশ করে এক পুলিশ সদস্য কর্তৃক ওই যুগলকে অমানবিক মারধর করতে দেখে মৌখিক আপত্তি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওসি আজাদ রহমানের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ও উপস্থিতিতে একদল পুলিশ সদস্য রাইকেলের বাট ও লাঠি দিয়ে রাকিবুলের ওপর চড়াও হন। নির্যাতনের পর আলামত নষ্ট করতে পুলিশ সদস্যরা জোরপূর্বক তাঁর শরীরের রক্ত ধুয়ে দেন বলে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের কাছে কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করেন।
এদিকে কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বাইরে দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ মারামারির কারণে রাকিবুল আহত হতে পারেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা ইন্ধনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক বা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তিনজনকে ক্লোজড করা হলেও ওসির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



