নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে আড়াই ঘণ্টা আটকে রেখে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ এবং এর প্রতিবাদে তাঁর আকস্মিক সরকারি সফর বাতিল করে ঢাকা ফিরে আসার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) নতুন দিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) এ বিষয়ে দিল্লির অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সার্ক (SAARC) ভিসার অধীনে একটি ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে বহুপক্ষীয় সংস্থা ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (IORA) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কমিটির ২৮তম সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর।
মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইমিগ্রেশন প্রটোকলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “দিল্লি বিমানবন্দরে রুটিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জাহেদ উর রহমানের ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং নথিপত্র পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁকে প্রথাগত জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য ভারতে প্রবেশের চূড়ান্ত অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও স্বেচ্ছামূলক সিদ্ধান্তে (Voluntarily) তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় ফিরে যান।” ভারতের এই দাবি অনুযায়ী, উপদেষ্টাকে প্রবেশাধিকার দিতে কোনো আইনি বাধা তৈরি করা হয়নি, বরং নিয়মতান্ত্রিক যাচাই-বাছাইয়ের পরেই ঘটনাটি ঘটে।
বিপরীতে, গত ১৪ জুন সন্ধ্যার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে ঘিরে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ এইটটিন’-এর প্রতিবেদনে প্রকাশ, আইওআরএ-এর দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশের একজন শীর্ষ রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টাকে বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বসিয়ে রাখা হয়। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এমন ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান রাষ্ট্রীয় সফর বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন এবং দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে পরদিন ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন।
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার পরদিনই (১৫ জুন) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পবন বাধেকে (Pawan Badhe) রাষ্ট্রীয়ভাবে তলব (Summon) করে তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর অসন্তোষ জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সমগ্র বিষয়টিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধির প্রতি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও প্রটোকল পরিপন্থী’ আচরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ট্র্যাজেডিটি গভীর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।



