― Advertisement ―

ইরানি নেতাদের হত্যার হুমকি দিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা উসকে দিয়ে ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তেল আবিবের দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল রাষ্ট্রকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মূল হোতা ও নেতৃত্বদানকারী ছিলেন বলেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তেহরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে যেকোনো ইরানি নেতাকেই একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আজ সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) ইসরায়েলের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘টেলিভিশন চ্যানেল ১৩’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে কাটজের এই চরম বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে আয়োজিত বিশাল শোক র‍্যালি চলাকালীন ঠিক এমন মুহূর্তেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে এল।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ তার বক্তব্যে তেল আবিবের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আরও বলেন, যেকোনো সময় এবং যেকোনো ধরনের কৌশলগত হুমকির মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য ইসরায়েল সামরিক ও গোয়েন্দা দিক থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধকে একটি প্রকাশ্য ও পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন।

অবশ্য ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কাটজের এমন চরম আক্রমণাত্মক ও খুনের হুমকি এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ‘হিট লিস্ট’ বা ‘হত্যার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ বলে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সেই আগের বক্তব্যটিকে কেন্দ্র করেও সে সময় তেহরানের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল।

ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক ও আগ্রাসী হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক কড়া বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী দেশ তেল আবিবকে অনতিবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং তাদের এই লাগামহীন আগ্রাসন থামানো।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন, ইরানের সাধারণ জনগণ কিংবা দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক হুমকি এলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আর সেই পাল্টা জবাব কোনো রকম বিলম্ব ছাড়াই তাৎক্ষণিক এবং অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন প্রশাসন ও ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার মধ্যকার অভ্যন্তরীণ সামরিক বোঝাপড়ার পরেই তেল আবিব এই ধরণের আক্রমণাত্মক প্রচারণায় নেমেছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তেহরানের শোক র‍্যালির দিন এই ধরণের বক্তব্য দুই দেশের মধ্যকার চলমান পরোক্ষ যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিতে পারে।