― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ আইনের আওতায় ৩০ জুন পর্যন্ত মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতামূলক ‘অপতৎপরতা’ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে দেশের কৌশলগত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ আইনের আওতায় পুনরায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সরকারের এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটেনি, তবে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা প্রতিবেদনের (Intelligence Report) ভিত্তিতে আগাম সতর্কতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (PSO) বরাবর পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে জানানো হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা করতে মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘মাফিয়া বাহিনী’ আওয়ামী লীগের কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড অপতৎপরতা এবং বিভিন্ন জেলায় বেআইনি মিছিল-মিটিংয়ের গোপন ছক গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঢাল বানিয়ে তারা দেশে একটি কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে। আরও কিছু স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় তথ্য আছে যা এই মুহূর্তে জনস্বার্থে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

পুলিশ বাহিনীর ওপর সরকারের আস্থার ঘাটতিজনিত কারণে পুনরায় সেনাবাহিনী ডাকা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে আস্থাহীনতার কোনো প্রশ্নই আসে না; আমাদের পুলিশ বাহিনী ইতিমধ্যে বেশ কিছু কৃতিত্বপূর্ণ ও সফল অভিযান পরিচালনা করেছে এবং তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। অনিয়ম করা দুই-একজন সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় সাজাও নিশ্চিত করা হয়েছে।” নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দেড় বছর মাঠে থাকা সেনাবাহিনীকে ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া গত ১৫ জুন শেষ হয়েছিল। ফলে বর্তমান রুটিন সেনা মোতায়েনের সাথে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানকালীন কারফিউ বা বিশেষ সেনা মোতায়েনের কোনো কাঠামোগত মিল নেই।

ব্রিফিংয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, আইনের চোখে কোনো এমপির ছেলের বিশেষ বিশেষাধিকার নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্তোষজনক মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের আমলের রামু বা নাসিরনগরের মতো সংখ্যালঘু নির্যাতনের কলঙ্কজনক অধ্যায় বর্তমান সরকারের আমলে আর ঘটবে না। তবে অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর ‘সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য’ প্রসংগে তিনি সবাইকে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।