― Advertisement ―

কোটাবিরোধী আন্দোলন: সড়ক অবরোধ করে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯...

আগৈলঝাড়ায় ভাঙ্গা সেতু নিয়ে বিপাকে ৩ গ্রামের হাজারো মানুষ

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি সেতু ভেঙ্গে খালে পড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন গ্রামের হাজারো মানুষ। সেতুটি ধসে পড়ার আট মাস পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে মেরামতের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামের রামেরবাজার থেকে সাহেবেরহাট খালের উপর ২০০০ সালে এলজিইডি’র অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হয়। এর আঠের বছর পর ২০১৮ সালে সেতুটির মাঝের অংশ দেবে যায়। এর পাঁচ বছর পর ২০২৩ সালে ৩মে রাতে সেতুটির মাঝের অংশ ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, সেতুটির মাঝের অংশ দেবে যাওয়ার পর এলজিইডি বিভাগকে জানানো হলেও তারা সংস্কারের কোন ব্যবস্থা করেনি। চলিত বছরের ০৩ মে রাতে ঝুঁকিপূর্ন সেতুটি মাঝখান থেকে ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়। ফলে যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায় । তিন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজের শত শত শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

যাতায়াতের বিকল্প কোনো পথ না থাকায় সেতুটির পাশে নড়বরে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। পশ্চিম মোল্লাপাড়া, দীঘিবালী ও ঐচারমাঠ গ্রামের শতাধিক পরিবারের হাজারো মানুষ এখন চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পরেছেন।

পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুমালা ঘরামী, সুমন দাস ও লীলা বিশ্বাস জানান, এই সেতুটি দিয়ে তাদের উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। সেতুটি ধ্বসে পড়ায় এখন আর কোন যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছেনা। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নড়বরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হয়ে পায়ে হেটে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। ধসে পরার আট মাস হয়ে গেলেও উপজেলা এলজিইডি বিভাগ থেকে মেরামতের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য অমল হালদার বলেন, ২০০০ সালে নির্মিত হওয়ার পর থেকেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চলাচলের সময় মানুষ আতংঙ্কে থাকতো। অথচ সেতুটি মেরামতের জন্য বারবার বলা সত্বেও সংশ্লিষ্ট দফতরের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

ধান ব্যবসায়ী অজয় সমদ্দার জানান, এই এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়। এখানকার চাষীরা ধান বিক্রি করতে চাইলেও শুধুমাত্র সেতুর অভাবে কোন পরিবহন নিতে না পারায় ধান কিনতে বা বিক্রি করতে পারেনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, সেতুটি ধসে পড়ার খবর শুনে অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছিলাম। তারা দেখে বিস্তারিত বলেছে। আমি বিষয়টি লিখিত আকারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ওই সেতুটি ছাড়াও বিভিন্ন স্থানের সেতুর জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সেতুটি সংস্কার করা হবে।