― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে ১৮ জামায়াতপন্থী আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা তথা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ১৮ জন শীর্ষস্থানীয় আইন কর্মকর্তা। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, পদত্যাগকারী এই ১৮ জন উচ্চপদস্থ আইন কর্মকর্তা দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক আইনজীবী হিসেবে সুপরিচিত। মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে তাঁরা এই আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগ করা এই সকল আইন কর্মকর্তা মূলত বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন ধাপে নিয়োগ লাভ করেছিলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এই গণ-পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১৮ জন আইন কর্মকর্তার পদত্যাগপত্র প্রশাসনিক দপ্তরে জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৭ জন ডিএজি এবং ১১ জন এএজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। দাপ্তরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসরণ করে এই পদত্যাগপত্রগুলো অতি দ্রুত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা ১০৩ জন এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা ২২৯ জন। এই বিশাল প্যানেল থেকে একযোগে ১৮ জনের পদত্যাগকে বিচারিক অঙ্গনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

পদত্যাগকারী সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন—মো. ইউসুফ আলী, মুহাম্মদ আবদুল করিম, মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, ফরিদ উদ্দিন খান, মো. আসাদ উদ্দিন এবং মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম (উৎস কপিতে ৭ জন ডিএজি বলা হলেও ৬ জনের নাম উল্লিখিত)। অন্যদিকে, পদত্যাগকারী ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন—ইমরুল কায়েছ, মো. হুমায়ুন কবির, মো. আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, মো. জোবায়দুর রহমান, মোহাম্মদ শামসিল আরেফিন, মাহবুবা আক্তার রলী, মীর এ কে এম নূরুননবী, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম এবং মো. জাকির হোসেন। একযোগে এত বিপুলসংখ্যক আইন কর্মকর্তার পদত্যাগের ফলে সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাময়িক দাপ্তরিক পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে।

এই গণ-পদত্যাগের নেপথ্যে কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের মতপার্থক্য অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে। পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবী মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট নীতিনির্ধারণী দাবির বাস্তবায়নে স্থবিরতার কারণে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণগুলো হলো—ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ (July Charter) পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ’ এবং উচ্চ আদালতে ‘বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ’ বাতিল করা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের দলগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে জুলাই সনদ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী অধ্যাদেশগুলোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া; যেহেতু বর্তমান নীতিগত অবস্থান এর সাথে মিলছে না, তাই তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।