― Advertisement ―

চাঁদের মালিকানা দাবি ট্রাম্পের: স্পেস ফোর্সের নতুন ইউনিফর্ম প্রকাশ ও একাধিক স্থান নামকরণের বিতর্কে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

মহাকাশের প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদের একক মালিকানা দাবি করে নতুন আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিজের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন পতাকাসহ চাঁদের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “দ্য মুন ইজ আওয়ার্স” (চাঁদ আমাদের)।

এই পোস্টের ঠিক পরপরই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাকে কমিক বুক চরিত্র ‘গ্রিন ল্যান্টার্ন’ রূপে তুলে ধরা হয়। এতে একটি বিশেষ সবুজ আংটি হাতে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। ট্রাম্পের এমন দাবি ও প্রচার কৌশল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরস ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

চাঁদের ছবি পোস্টের কয়েক মিনিট আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের সম্ভাব্য নতুন পোশাকের কিছু এআই ছবি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এসব ইউনিফর্মের রং ব্যাখ্যা করে তিনি ‘স্পেস গ্রে, মিডনাইট ব্ল্যাক, সিলভার গ্রে ও স্যাটিন ব্ল্যাক’ শব্দগুলো ব্যবহার করেন। শোল্ডার ইনসিগনিয়া, হাতার প্যাচ এবং বেল্টযুক্ত এসব সামরিক পোশাক দেখে অনেকেই ‘স্টার ওয়ার্স’ চলচ্চিত্রের ইম্পেরিয়াল ফোর্সের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন।

তবে ট্রাম্পের এই একক সার্বভৌমত্ব বা মালিকানার দাবি ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ চুক্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের স্বাক্ষর করা এই চুক্তি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো দেশ দখলের উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো অজুহাতে মহাকাশের কোনো বস্তু বা চাঁদের ওপর সার্বভৌম অধিকার দাবি করতে পারবে না।

ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের এই মেজাজ ট্রাম্প শুধু মহাকাশেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। এর আগে হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ এবং নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যকে ‘নিউ আমেরিকা’ নামকরণের কথা বলেন তিনি। যদিও নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে জানান, মার্কিনীদের আসল অর্থনৈতিক সমস্যা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি থেকে নজর সরাতেই ট্রাম্প এমন বিতর্ক উসকে দিচ্ছেন।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট ওভাল অফিস থেকে কানাডা সীমান্তসংলগ্ন লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। হুরন-ওয়েন্ডাট ফার্স্ট নেশনের গ্র্যান্ড চিফ পিয়েরে পিকার্ড ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা বলে আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ক্ষমতায় বসেই মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ করেছিলেন ট্রাম্প, যা তৎকালীন মেক্সিকো সরকার সঙ্গে সঙ্গেই নাকচ করে দেয়।