― Advertisement ―

প্রবাসীদের প্রাণহানিতে শোক ও সংহতির ধন্যবাদ: ইউএই সভাপতির ঢাকা সফরের ইচ্ছা প্রকাশ

সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। একই সাথে কঠিন সময়ে ইউএইর পাশে থেকে বাংলাদেশের প্রদর্শিত দৃঢ় সংহতি ও সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক বিশেষ চিঠিতে তিনি আবুধাবি ও ঢাকার মধ্যবর্তী বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট তাঁর চিঠিতে জানান, সাম্প্রতিক এই সংকটকালে বাংলাদেশের সহানুভূতিশীল অবস্থান উভয় দেশের গভীর আত্মিক সম্পর্কের প্রমাণ। হামলায় যেসব বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অর্থনৈতিক পরাশক্তি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে।

প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে বহু বছরের পুরোনো বন্ধুত্বের বন্ধন নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অর্থনৈতিক প্রসার, সমন্বিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ইউএই প্রেসিডেন্টের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের সম্মতি। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করে তিনি জানান, দ্রুততম সুবিধাজনক সময়ে তিনি ঢাকা সফরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এই সফর সম্পন্ন হলে দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ ও ইউএইর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বহু বছর ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, নিবিড় বন্ধুত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষার নীতিতে ভর করে গড়ে উঠেছে এই মেলবন্ধন। প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে জ্বালানি নিরাপত্তা—সবক্ষেত্রেই দুই দেশের পারস্পরিক ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক নির্ভরতা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।

আবুধাবিতে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবারবর্গকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনায় এসেছে। এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কূটনৈতিক যোগাযোগ বিশ্বমঞ্চে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।