হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে একাই ধস নামালেন বাংলাদেশের উদীয়মান গতি তারকা নাহিদ রানা। এই ডানহাতি পেসারের ক্যারিয়ার সেরা বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার। তবে শেষ দিকে লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের কিছুটা প্রতিরোধের কারণে অলআউট হওয়ার আগে দেড়শর কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা।
আজ সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) টস জিতে প্রথমে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। ম্যাচ শুরুর পর থেকেই টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিক দল। শেষ পর্যন্ত ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রান তুলতেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
ম্যাচের শুরুতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের ওপর প্রথম আঘাতটি হানেন অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ। দলীয় ১৯ বলে ১৮ রান করে বেন কারান রানআউট হওয়ার পর, ২৪ বলে ১৭ রান করা ব্রায়ান বেনেতকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। এরপর মাঠে নামা ক্রেইগ আরভিনকে রানের খাতাই খুলতে দেননি তিনি; সরাসরি বোল্ড করে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ দেন।
টপ অর্ডারের বিদায়ের পর ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন নাহিদ রানা। একের পর এক গতি আর বাউন্সারে জিম্বাবুয়ে শিবিরে কম্পন ধরিয়ে তিনি একে একে তুলে নেন ইনোসেন্ট কাইয়া (২৬), সিকান্দার রাজা (১), ওয়েসলি মাধভিরে (০), ক্লাইভ মাদান্দে (২) এবং ব্র্যাড ইভান্সের (৩) মূল্যবান উইকেটগুলো।
মাত্র ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে যখন ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার চরম শঙ্কায়, ঠিক তখনই নবম উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন নিউম্যান নিয়ামহুরি ও রিচার্ড এনগারাভা। এই দুই টেল-এন্ডার ব্যাটার মিলে জিম্বাবুয়ের ইনিংসে দুর্দান্ত এক ৬৩ রানের জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডকে টেনে নিয়ে যান।
অবশেষে জিম্বাবুয়ের এই প্রতিরোধও ভাঙেন সেই নাহিদ রানাই। দলীয় ১৩৩ রানের মাথায় ৪১ বলে ২৭ রান করা জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভাকে বোল্ড করে নিজের উইকেটের কোটা পূর্ণ করেন তিনি। ম্যাচে একাই ৬টি উইকেট শিকার করে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার উপহার দেন রানা।
শেষ উইকেট জুটিকে আর বেশি দূর এগোতে দেননি অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ বলে ৩৩ রান করা নিউম্যান নিয়ামহুরিকে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচে পরিণত করে স্বাগতিকদের ইনিংসের ইতি টানেন মিরাজ। তাসকিন আহমেদ ২টি এবং মিরাজ নেন ১টি উইকেট।



